
উদ্বোধনের ২০ বছর পর চালু হলো কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার গোহারুয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। এত বছর নানান রাজনৈতিক কারণে এই সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিলো বলে ক্ষোভ এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, এমন একটি হাসপাতাল যা কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ এবং নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এত বছর সরকারি স্বাস্থ্য সেবা পেতে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়েছে বাসিন্দাদের, অথচ ঘরের পাশেই পড়েছিলো ৭ টি ভবনের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবকাঠামো।
বুধবার গোহারুয়া হাসপাতালটির কার্যক্রম আবারো শুরু করেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুইয়া। এসময় এই হাসপাতালে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ জয়নাল আবেদীন, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল খায়ের, আরএমও ওমর কাইউয়ুম উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে এখানে বহির্বিভাগ বিভাগ চালু করা হয়েছে।
গোহারুয়া এলাকার বাসিন্দা পান্না আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার দেখাতে হলে কমে ২০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। রাতের বেলা এই এলাকার মানুষের আরো বেশি সমস্যা।
মানিকমুড়া এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, এত সুন্দর একটা হাসপাতাল এতদিন পরে আছে। দোষ হলো, এটা বিএনপি বানিয়েছে। মানুষের এখন এখান থেকে চিকিৎসা দরকার। আমরা চাই এটা যেন দ্রুত পুরোদমে চালু হয়। 
হাসপাতাল চালু করতে এসে মোবাশ্বের আলম ভুইয়া এমপি বলেন, আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিলো এই হাসপাতাল চালু করা। আমি সে দায়িত্ব পালন করেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা আমাকে সহযোগিতা করছে। আমার এলাকার মানুষ উপকার পাবে এটাই আমার শান্তি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বানানো হাসপাতালটি দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিলো। এখন আবার চালু হয়েছে। এটির জন্য ২৫ লাখ টাকার ডিপিপি চালু করার প্রক্রিয়ায় আছে। এখানে ২০ শয্যা হাসপাতাল ভবন ছাড়াও চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার আলাদা আলাদা ভবন, স্টাফ কলোনীর ভবন রয়েছে। এখন হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও আসবাবপত্র সরবরাহ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে।
