
একটি গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। এখন সবার দৃষ্টি এই সরকারে কারা থাকছেন সেই দিকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটা নিশ্চিত। ইতোমধ্যে নির্বাচন-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ভবিষ্যতে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।
তারেক রহমান বেশ কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন। তার বক্তব্যের মূল সুরটি ছিল ঐক্যের। তিনি বিভাজনের রাজনীতিকে বর্জন করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ শাসনের কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। দেশ শাসনের এই মূল ভিত্তির পাশাপাশি দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিতে চান, সেই ভাবনা ও প্রতিশ্রুতির কথাও বলেছেন তিনি।
যেকোনো সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মুহূর্তে মানুষের প্রত্যাশা থাকে আকাশচুম্বী। সেই প্রত্যাশা তারা জানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না। তবু মানুষ আশায় আশায় বাঁচে। দেশে সুশাসন বলতে যা বোঝায় তা ছিল না। নানা সংকটের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের দিন কেটেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমান যা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। অব্যাহত মব সন্ত্রাসের কবলে পড়ে দেশে এক ধরনের অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় মানুষ প্রত্যাশা করছে, এই দমবন্ধ অবস্থা থেকে তারা মুক্তি পাবে। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক চান দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসান চান মব সন্ত্রাসের। রাজনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ প্রত্যাশা করছেন, নতুন সরকার ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী জোর দিয়েছেন আইনের শাসনের ওপর। আইনের শাসনই হচ্ছে সুশাসন। নতুন সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা, বিএনপি দলীয় ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব তারা বাস্তবায়িত করবে।
বিশিষ্টজনদের এসব মতামতের পাশাপাশি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রত্যাশা তুলনামূলকভাবে জীবনঘনিষ্ঠ। একজন দোকানি বলেছেন, সরকারের কাজের অগ্রাধিকারের তালিকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের বিষয়টি থাকা দরকার। রিকশাচালক হারুনুর রশিদের দাবি, জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে। চালের দাম ২৫ টাকা করা হলে গরিব মানুষ খেয়ে-পরে বাঁচবে। দেশে যে খুনোখুনি, সন্ত্রাস, ক্যাডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে, সেসব বন্ধ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান শুভ গুরুত্ব দিয়েছেন কর্মসংস্থান এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর। চাকরিজীবী ও রাইডার শেয়ারিংচালক আজাদ মিয়া প্রত্যাশা করছেন নতুন সরকার মব সন্ত্রাস দমন করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে। যানজট দূর করা এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে মব সন্ত্রাসমুক্ত দেশে নিরাপদে বাঁচতে চান এই চালক।
সাধারণ মানুষের এসব চাহিদা, তেমন বেশি কিছু নয়। জীবনের মৌলিক ন্যূনতম চাহিদা এগুলো। অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণ মানুষের এই মৌলিক চাহিদাই পূরণ করতে পারেনি। অথচ সেই সরকার যখন প্রথম ক্ষমতায় আসে, এসব চাহিদা পূরণ হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। এখন নতুন সরকারের সময় আবার তারা আশায় বুক বাঁধছেন। আমাদের সারস্বত সমাজের প্রত্যাশা হচ্ছে, রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার ঘটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হোক। সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার ন্যূনতম সংস্থানটুকু পাক। এই দায়িত্ব এখন বর্তেছে বিএনপি সরকারের ওপর। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়ে শুরু হোক এই নতুন সরকারের যাত্রা।
