
অবশেষে
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশ
থেকে যে খবর পাওয়া গেছে, তাতে কোথাও বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন
কিছু সহিংসতা আর জাল ভোটের অভিযোগ ছাড়া পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল। নির্বাচনের
আগের দিন, অর্থাৎ গত পরশু রাতে যেভাবে টাকাসহ দলীয় নেতারা হাতেনাতে ধরা
পড়ছিলেন, তাতে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে
সেরকম খবর গণমাধ্যমে আসেনি। সব মিলিয়ে ভোটের সার্বিক পরিবেশ ছিল
উৎসবমুখর।
দীর্ঘদিন পর প্রশ্নহীন একটা নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিলেন।
যদিও এই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি বলে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর
বেরিয়েছে। বিশ্লেষকরাও এমন মন্তব্য করেছেন। তবে এবারের নির্বাচন যে অবাধ,
সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেরকমই জানা গেছে। এই নির্বাচনে
সেনাবাহিনীকেও প্রশংসনীয় ভূমিকায় দেখা গেছে।
দিনের শুরুতে নিজেদের
কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান
এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। নির্বাচনি অনিয়ম নিয়ে তেমন অভিযোগও কেউ
করেননি।
ভোটপর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর ভোটের বেসরকারি ফলাফল ইলেকট্রনিক ও
প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এখন মিডিয়া ও আগ্রহী মানুষদের
মনোযোগ মূলত গণমাধ্যমের দিকে। ফলাফল প্রকাশের দিক থেকে আমাদের দেশের রীতি
হচ্ছে, গণমাধ্যমগুলো প্রথমে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করে। সেই
ফলাফলের ভিত্তি হচ্ছে রিটার্নিং অফিসারের দ্বারা ঘোষিত ফলাফল। অনলাইন ও
ডিজিটাল মাধ্যমে সেরকম খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ
আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এগিয়ে আছে। বেশ কিছু আসনে জামায়াতের এগিয়ে
থাকার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অন্য কিছু আসনে অন্য দলের কিছু প্রার্থী এগিয়ে।
ফলাফলের প্রবণতা যা-ই হোক, যে দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাক, সবাই সেই ফলাফল
মেনে নেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে, জনমতকে
মেনে নেওয়া। নির্বাচনি ফলাফলকে মেনে নেওয়া। বিগত নির্বাচনগুলো নিয়ে নানা
প্রশ্ন ছিল। গণতন্ত্রের পরিপূর্ণ রূপ সে সময়ে দেখা যায়নি। নির্বাচন নিয়ে
ছিল বিস্তর অভিযোগ। একতরফা নির্বাচন থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগে দেশের
অধিকাংশ মানুষের কাছে সেসব নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক
পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চব্বিশের গণ-আন্দোলনের পটভূমি তৈরি
হয়। সেই আন্দোলনের পরে এবারই মুক্ত-অবাধ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই
নির্বাচনে প্রতিফলিত জনমতকে তাই সবার মেনে নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।
গণতন্ত্রকে যদি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হয়, তাহলে এর বিকল্প নেই।
আপাতত
ষোল মাস পর দেশ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরল। এবার দেশকে নতুন করে
এগিয়ে নেওয়ার পালা। নির্বাচনের আগে দলগুলো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে-কখনো
জনসভায় এবং প্রধানত নির্বাচনি ইশতেহারে। প্রত্যাশা থাকবে প্রতিশ্রুত এসব
অঙ্গীকার নির্বাচিত সরকার দ্রুত পূরণ করবার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জনগণের
সমস্যা এবং প্রত্যাশা পূরণ করাই হচ্ছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের
কাজ। এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে গণতান্ত্রিক পথে দেশ এগিয়ে
যাক। তারা সেটাই চান। দেশের মানুষকেও আমরা তাই তাদের এই ভূমিকার জন্য
অভিনন্দিত করি। সেই সঙ্গে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি যারা সংসদ সদস্য
নির্বাচিত হবেন এবং যে দল বা জোট সরকার গঠন করবে তাদের। গণতন্ত্র ও
সমৃদ্ধির পথে শুরু হোক আমাদের নতুন যাত্রা।