
বাংলাদেশ
ফুটবল লিগের প্রথম লেগ শেষ হয়েছে ৩ জানুয়ারি। এক মাস পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয়
লেগের খেলা এখনো শুরু হয়নি। কবে শুরু হবে সেটাও জানা নেই ক্লাবগুলোর।
সাবেক
জাতীয় ফুটবলার ও মোহামেডানের ফুটবল দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব
বলেন, ‘১৯ জানুয়ারি ফেডারেশন চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল পুনঃনির্ধারিত ফিকশ্চার
দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রেরণ করবে। এখনো আমরা ফিকশ্চার পাইনি। ফিকশ্চার পেলে
আমরা ক্যাম্প শুরু করব।’
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান আজ
বিকেলে ফেডারেশনে গিয়েছিলেন লিগের খোঁজ নিতে। সশরীরে গিয়েও কোনো কিছু
সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারেননি, ‘ফেডারেশন আমাদের এখনো বলতে পারছে না কবে
থেকে খেলা। এটা না বললে তো আমরা প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শুরু করতে পারছি
না।’
৩ জানুয়ারি প্রথম লেগ শেষের পর মধ্যবর্তী দলবদল ছিল। ৩১ জানুয়ারি
দলদবলের পর ৩ ফেব্রুয়ারি ফেডারেশন কাপ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লিগের দ্বিতীয় পর্বের
সূচি দিয়েছিল ফেডারেশন। নির্বাচনের কারণে মোহামেডান ক্লাবই পিছিয়ে খেলা
শুরুর দাবি জানিয়েছিল। লিগ কমিটি সেই দাবি আনুষ্ঠানিক সভায় আমলে না নিলেও
৪৮ ঘন্টা পর আবার সেই সূচি স্থগিত করে। ১৯ জানুয়ারি এই সিদ্ধান্তের পর এখনো
ক্লাবগুলো জানে না কবে আবার খেলা শুরু হবে।
লিগ টেবিলে বসুন্ধরা
কিংসের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে ফর্টিজ এফসি। তারা ১৭ জানুয়ারি থেকে
দলকে অনুশীলনেই রাখছে। পুনরায় কবে খেলা শুরু এটা জানা ক্লাবগুলোর অধিকার
বলে মন্তব্য দলটির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের, ‘ক্লাবগুলো ডিজার্ভ করে কবে
থেকে খেলা শুরু সেটা জানার। শিডিউল না পেলে কোচ পরিকল্পনা সাজাতে পারে না।
দেরি হয়ে গেছে, এখন দ্রুত দিয়ে দেওয়া উচিত, যেহেতু এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের
লিগ।’
আবাহনী, ফর্টিজ অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে। বসুন্ধরা কিংস মাসখানেকের
বেশি সময় ক্যাম্প বন্ধ রেখেছে। অনেক ক্লাবই অনুশীলনে নেই তাই অন্তত দুই
সপ্তাহ সময় চান মোহামেডানের ম্যানেজার নকীব, ‘আজ বা কাল যদি জানায় আগামী
সপ্তাহে খেলা সেটাও তো হবে না। কারণ এক মাস খেলা নেই। খেলোয়াড়দের ফিটনেস
নেই। এক সপ্তাহের মধ্যে খেলা শুরু হলে ইনজুরিতে পড়বে ফুটবলাররা। দুই সপ্তাহ
সময় দিয়ে খেলা শুরু করতে হবে।’
ফেডারেশন কাপের অবশিষ্ট অংশ, লিগের
দ্বিতীয় পর্ব কবে শুরু হবে এই বিষয়ে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের
সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। লিগ কমিটির অন্য
সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সবাই বল ঠেলেছেন চেয়ারম্যানের
কোর্টে। পুরো বিষয়টিই নাকি চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর। লিগ কমিটির
চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান আবার বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি। যা চরম স্বার্থের
সংঘাত। কাজী সালাউদ্দিনের আমল শেষে তাবিথ আউয়াল জমানাতেও ইমরুল হাসান লিগ
কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেই রয়েছেন। ফুটবলসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ, একটি
ক্লাবের সভাপতি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান থাকায় অন্য ক্লাবগুলোর ন্যায্যতা ও
সাম্যতা নিশ্চিত হয় না। সূচি হওয়ার পর যখন অন্য ক্লাবগুলো জানলেও কিংস
আগেভাগে জানে বা কিংসের অনুযায়ী পরিকল্পনা হয় এমনটাই আলোচনা ফুটবলাঙ্গনে গত
কয়েক মৌসুম।
হামজা চৌধুরী-সামিত সোম আসার পর দেশের ফুটবলে উন্মাদনা
বেড়েছে। তাদের এই উন্মাদনা কাজে লাগিয়ে বাফুফে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
তবে ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা লিগের দিকে তেমন নজর নেই। দেড় মাস
হতে চলল লিগ বিরতি কবে খেলা শুরু, সেটা না জানানো উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ!