নিজস্ব
প্রতিবেদক : দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ ‘ঠিক রেখে’ নতুন সরকারের
পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থ, দেশের মানুষের
স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে
আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে
বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর এই সংবাদ সম্মেলনে এলেন তারেক রহমান।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে হয় এ সংবাদ সম্মেলন, যেখানে দলের স্থায়ী
কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রনীতি
বিষয়ে তিনি খসরু বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নীতির পক্ষে না।
তাই আমাদের নীতি বিশ্বের সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। এই নীতি
পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে
হস্তক্ষেপ না করা এবং বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা।”
‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং’:
সংবাদ
সম্মেলনে সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, “গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে
আপনি বলে আসছেন যে এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেলো।
এটা আপনার কাছে সহজ ছিল কিনা? আর আপনাকে দুশর বেশি আসন পাওয়ার জন্য কোনো
ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কিনা?”
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘‘দেশের জনগণকে
কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল,
জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।
“আর
জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই ছিল আপনার
প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেটা আমি বলেছিলাম, কঠিন হবে কিনাৃ যেকোনো
ভালো কাজের লক্ষ্য অর্জন করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।”
ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক?:
দেড়
যুগের বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পরে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে
ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর ঢাকায় সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের
সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন তিনি। কিন্তু শনিবারই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক
সংবাদ সম্মেলনে এলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার ভোট দেওয়ার পর এবং
রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের কাছে দুই দফা
প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছিলেন তারেক রহমান। তবে দেশে ফেরার পর শনিবারই প্রথম
সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে?”
তারেক রহমান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তারপরও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবকে বলতে বলছি।”
তখন আমীর খসরু বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ইতিমধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। আগামী সোমবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন সরকারের সম্ভাব্য নানা চ্যালেঞ্জের বিষয়েও উত্তর দিতে হয় বিএনপি চেয়ারম্যানকে।
তিনি
বলেন, “আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল
করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত সরকার, তারা দেশের সব প্রতিষ্ঠান
দলীয়করণ করেছে।
“সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”
যুবকদের জন্য বিএনপির কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেই প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।
জবাবে
তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন, তবে
সমাজের আরও শ্রেণিপেশার মানুষ আছেন। আমরা সবার বিষয়ে এড্রেস করব।
‘‘আমরা
ইতিমধ্যে আমাদের দলের ইশতেহার প্রকাশ করেছি। সেখানে সব বিষয় আমরা তুলে
ধরেছি। যুবকদের জন্য কী করব, নারীদের জন্য কী করব, প্রতিবন্ধীদের জন্য কী
করব, সব কিছু সেখানে আছে।”
সার্কের ভবিষ্যৎ এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চান এক সাংবাদিক।
জবাবে
তারেক বলেন, ‘‘ইয়েস আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে।
স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এ বিষয়ে আমরা আলাপ করব।
“আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন, এটা নির্ভর করে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।”
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক’:
তারেক
রহমান বলেন, ‘‘আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক
গড়ব। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারে, অভিন্ন স্বার্থ প্রাধান্য পাবে সবার
আগে।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন
কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরও
নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।”
জুলাই আন্দোলনের পর দেশের অর্থনীতিতে
শ্লথ হয়ে যায়। কমে যায় বিদেশি বিনিয়োগ। এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি সচল করতে
বিএনপি সরকারের উদ্যোগ জানতে চান আরেক সাংবাদিক।
জবাবে তারেক বলেন, “বেশি বেশি বিনিয়োগ আনতে হবে এবং কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।”
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি মোকাবেলার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান।
“আইন
যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে, আমরা ইনশাল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে
আসার পরে চেষ্টা করব, আইন যেন আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের পজিশন।”
বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চান এক সাংবাদিক।
তারেক
রহমান বলেন, ‘‘আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন, সেখানে আপনার এই প্রশ্নের
জবাবগুলো সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি।
অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই, যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও
মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে
আল-জাজিরা, বিবিসি, এবিসিসহ চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, জার্মানিসহ
বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা বিএনপি চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করেন।
সংবাদ
সম্মেলনে তারেকের ডান পাশে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বাঁ পাশে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তার দলকে বিজয়ী করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।
