কুমিল্লা-৭
(চান্দিনা) আসনে আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে
চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন
নিয়ে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করে তরুণ রাজনৈতিক নেতা আতিকুল আলম শাওন জয়লাভ করেছেন। একই সঙ্গে ১৩টি
জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চান্দিনা উপজেলা সদর থেকে কোনো
প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার নজির গড়লেন তিনি।
চান্দিনা আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় নতুন নয়। এ আসনে আতিকুল আলম শাওন স্বতন্ত্র পদের তৃতীয় এমপি হয়েছেন।
১৯৭৩
সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে হাজী রমিজ
উদ্দিন মনোনয়ন পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন প্রয়াত নেতা
অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জে. এ. সামছুল হককে মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচনেও
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. রেদোয়ান আহমেদ বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ড. রেদোয়ান আহমেদকে মনোনয়ন
দেওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে জয় ছিনিয়ে নেন আতিকুল আলম
শাওন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চান্দিনা আসনের একাধিক নির্বাচনে
ব্যক্তি-ইমেজ, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন—দলীয় প্রতীকের
চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
উপজেলা সদরের অপেক্ষার অবসান-
চান্দিনা
উপজেলা সদরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—উপজেলা সদর থেকে কেউ সংসদ
সদস্য নির্বাচিত হননি। গত ১১টি জাতীয় নির্বাচনে এ অঞ্চলের কোন নেতা সংসদ
সদস্যের প্রার্থী হয়নি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী হন মরহুম খোরশেদ আলম। তিনিই ছিলেন স্বাধীনতার পরে উপজেলা সদরের
একমাত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী।
কিন্তু ওই নির্বাচনে প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, সেই পরাজয়ের দেড় যুগ পর তাঁরই পুত্র আতিকুল আলম শাওনের বিজয় ‘সুদে-আসলে পুষিয়ে নেওয়া’ সাফল্য।
উপজেলা
সদরের ভোটারদের ভাষ্য- “দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটেছে। এবার সরাসরি
আমাদের এলাকার প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে কথা বলবেন। সারা উপজেলার সাথে সদরের
উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন”।
বিজয়ের পেছনের কারণ-
রাজনৈতিক মাঠের প্রবীন
নেতা রেদোয়ানকে হারিয়ে নবীন নেতা আতিকুল আলম শাওন এই জয়ের পিছনে স্থানীয়
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা কয়েকটি কারণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আতিকুল আলম
শাওনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ছিল
আকাশচুম্বি। পিতৃতুল্য নেতাদের সন্মুখে শাওন বরাবরই বিনয়ী। স্বতন্ত্র
হিসেবে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করলেও
উপজেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত কোন কমিটির নেতা-কর্মী শাওনকে ছেড়ে
যায়নি। জয়ের ব্যপারে তার নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধতা ছিল অকল্পনীয়।
নবনির্বাচিত
সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন বিজয়োত্তর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন- “এই
বিজয় চান্দিনা উপজেলা সদরের মানুষের। আমি দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি
হিসেবে কাজ করব।”
চান্দিনা আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর তৃতীয়বারের বিজয়
স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উপজেলা সদরের দীর্ঘ
প্রতীক্ষিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন
বাস্তব উন্নয়নের দিকে।
