শত্রুর
সাথেও যেন বে-ইনসাফি না হয় তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে
জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র দক্ষিঞ্চালের মুখ্য সংগঠক হাসনাত
আব্দুল্লাহ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল
মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মানুষের আস্থার
প্রতি দায়িত্বশীল থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন , ২৪
পরবর্তী সময় আমরা অনেকেই হারিয়েছি। তারপরও একটি নির্ভেজাল জীবন কাটাতে
পারতাম। কিন্তু মানুষ যেহেতু আমাদের উপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছে সে
আস্থার প্রতিদান অবশ্যই দিব।
হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার
সংসদীয় আসন থেকে বিপুল হোটেলের ব্যবধানে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। হাসনাত
নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার এলাকায় উৎসবের আমেজ বয়ে যাচ্ছে। পাড়া মহল্লায়
আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করছেন তার সমর্থকরা।
শুক্রবার
কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
দেশে এমন এক বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা হবে যেখানে রাজনৈতিক
প্রতিহিংসার কোনো স্থান থাকবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "আমরা ইনসাফ
প্রতিষ্ঠা করবো। আমার শত্রুর সঙ্গেও যেন কোনো বেইনসাফি না হয়, সে ধরনের
সিস্টেম তৈরির জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে।"
প্রভাবশালী
গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় নির্বাচনী লড়াইয়ের স্মৃতি চারণ করে হাসনাত
আবদুল্লাহ বলেন, "এই নির্বাচনটি ছিল আমার বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও
প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অসম লড়াই। পেশিশক্তি আর প্রভাবের বিপরীতে আমার কাছে ছিল
সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। আমার সঙ্গে জনগণ ছিল, তাদের গভীর আস্থা ছিল। আর
সেই আস্থার প্রতিফলনই আজকের এই বিজয়।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই
শীর্ষ নেতা তার আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, "ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত
বিলুপ্তিই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনে আমরা কাজ
করবো। এনসিপির রাজনীতির মূল অঙ্গীকার হলো রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
বাস্তবায়ন করা।" তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
গড়ার সময় এসেছে। যেখানে ন্যায়বিচার হবে সবার জন্য সমান।
গত বৃহস্পতিবার
অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী
হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন হাসনাত আবদুল্লাহ।
নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট তাকে পূর্ণ সমর্থন দেয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো
হয়েছে, হাসনাতের এই বিজয় দেবিদ্বারে দীর্ঘদিনের পরিবারতান্ত্রিক ও
প্রভাবশালী রাজনীতির বলয় ভেঙে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করেছে।
