ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই জামানত হারিয়েছেন। বেসরকারি
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল দুই
প্রার্থীর মধ্যে; বাকি প্রার্থীরা ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ
হন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ২০৮টি।
উপজেলা
নির্বাচন কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক
প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪১ এর ১ অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত উল্লেখ
রয়েছে।
এ ছাড়াও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে গত ১৩ ডিসেম্বর
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ
মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সে হিসেবে এ
আসনে ন্যূনতম ৩৭ হাজার ৯০১ ভোট না পেলে জামানত রক্ষা করা সম্ভব নয়।
দুই
উপজেলার ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী মো. আবুল কালাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১০৮ ভোট
পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের
প্রার্থী ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী পেয়েছেন ১লাখ ১৩ হাজার ৪৫৪
ভোট। ফলে ৫৪ হাজার ৬৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন মো. আবুল কালাম।
লাকসাম
উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ননার্গিস সুলতানা, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহী।
এদিকে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লা ছাড়া বাকি ৬ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের সীমা অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত
হারানো প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট'র প্রার্থী মো.
মিজানুর রহমান চৌধুরী (ছড়ি প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ১২৪ ভোট। স্বতন্ত্র
প্রার্থী মো. আবুল কাশেম (হাঁস প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ৩৩৩ ভোট। বিএনপির
বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা (ফুটবল প্রতীক)। তিনি
পেয়েছেন ৩৬৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল
প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ১৯৯ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ'র
প্রার্থী মো. আবু বাকার সিদ্দিক (চেয়ার প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৯৫
ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ'র প্রার্থী সেলিম মাহমুদ (হাতপাখা
প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৫৯ ভোট।
কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনে মোট
ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬২ জন। তন্মধ্যে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩
লক্ষ ৩ হাজার ২০৮। সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৯ আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার
বাইরে অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হন এবং ব্যাপক
ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানত হারান।
