
বোলারদের
সম্মিলিত চেষ্টায় প্রতিপক্ষকে নাগালে রাখল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিপত্তি
বাঁধল রান তাড়ায় নেমে। প্রথম দুই ওভারে ওপেনারদের হারিয়ে চাপে পড়া দলকে
টানলেন টম ব্যান্টন। তার চমৎকার পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে স্কটল্যান্ডকে হারাল
সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম
ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হারের দুয়ার থেকে ফেরে ইংল্যান্ড। পরে ওয়েস্ট
ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেই বসে তারা। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জয়টা তাই খুব
গুরুত্বপূর্ণ দলটির জন্য।
কলকাতায় শনিবার ৫ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। স্কটিশদের ১৫২ রান ১০ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে গেছে তারা।
এবারই
প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছেন ২০১৯ সালে এই সংস্করণে অভিষিক্ত
ব্যান্টন। আসরে প্রথম দুই ম্যাচেই ২ করে রান করেন তিনি। ব্যর্থতার বল ভেঙে
স্কটিশদের বিপক্ষে তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৪১ বলে খেলেন অপরাজিত ৬৩ রানের
ইনিংস।
দেশের হয়ে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন ২৭ বছর বয়সী ব্যান্টন।
তিন উইকেট নিয়ে লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ এবং দুটি করে শিকার ধরা জফ্রা আর্চার ও লিয়াম ডসন ইংলিশদের জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ইডেন
গার্ডেন্সে শেষের মতো ম্যাচের শুরুটাও ভালো ছিল ইংল্যান্ডের। তৃতীয় ওভারে
জোড়া শিকার ধরেন আর্চার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টানা দুই চার ও এক ছক্কা
হজমের এক বল পর মাইকেল জোন্সকে বিদায় করেন স্যাম কারান।
এরপরই আসে
ম্যাচের সবচেয়ে বড় ৭১ রানের জুটি। ৪২ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের রান একশ পার
করেন টম ব্রুস ও রিচি বেরিংটন। নবম ওভারে রাশিদকে একটি করে চার ও ছক্কা
মারেন বেরিংটন, শেষ বলে ছক্কায় ওড়ান ব্রুস।
দলের রানের গতিতে দম দেন
অধিনায়ক বেরিংটন। দশম ওভারে ডসনকে টানা দুই চার মারেন তিনি। পরপর দুই ওভারে
ব্রুস ও বেরিংটনকে হারায় স্কটিশরা। একটি করে ছক্কা-চারে ২৪ রান করেন
ব্রুস, দুই ছক্ক ও পাঁচ চারে ৪৯ রান করেন বেরিংটন।
এরপর একের পর এক
উইকেট হারাতে থাকে স্কটল্যান্ড। শেষ দিকে অলিভার ডেভিডসনের অপরাজিত ২০
রানের ইনিংসে দেড়শ ছাড়ায় দলটির রান। ৩৯ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় তারা।
রান
তাড়ায় তৃতীয় বলেই ফিল সল্টকে হারায় ইংল্যান্ড। পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের
পথ জস বাটলারও। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে পথে রাখেন ব্যান্টন ও জেকব
বেথেল। ৪৫ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা।
প্রথম ১০ বলে ৭ রান করা বেথেল
পঞ্চম ওভারে ম্যাকমুলেনকে ছক্কার পর টানা দুই চার মারেন। শুরুতে কিছুটা
মন্থর ছিলেন ব্যান্টনও। প্রথম ১০ বলে ৬ রান করা ব্যাটসম্যান বাউন্ডারির
দেখা পান সপ্তম ওভারে।
খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসা ব্যান্টন পরে মার্ক ওয়াটের
ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকান। দুই ওভারে দল দুই উইকেট হারালে ফের ধীরলয়ে
এগোনোর পথে হাঁটেন তিনি। ডেভিডসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩২ রান করা বেথেল।
মাইকেল লিস্ক টিকতে দেননি হ্যারি ব্রুককে।
কারানকে নিয়ে দলকে লক্ষ্যের
পথে এগিয়ে নেন ব্যান্টন। ব্র্যাড কারিকে চার মেরে ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন
তিনি। ভালো শুরু পাওয়া কারান দুই ছক্কা ও এক চারে ২৮ রান করে ফিরে যান।
তবে কাজ শেষ করেই মাঠ ছাড়েন ব্যান্টন।
১৯তম ওভারে ব্র্যাড হুইলকে লং-অন দিয়ে বিশাল এক ছক্কায় ওড়ানোর পরের বলেই চার মেরে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন উইল জ্যাকস।
