তানভীর দিপু:
কুমিল্লার
নির্বাচনে চমক, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর বড় ব্যবধান-সব মিলিয়ে জমে উঠেছিল
ভোটের মাঠ। সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন চান্দিনার আতিকুল আলম শাওন। কুমিল্লা-৭
আসনে বিএনপির বিদ্রোহী এই প্রার্থী নির্বাচনে লড়তে গিয়ে দল থেকে বহিষ্কারও
হয়েছিলেন। হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয়
পেয়েছেন তিনি। তাদের দুজনের ভোটের ব্যবধান ৪৩ হাজারেরও বেশি। উপজেলা
বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আতিকুল আলম শাওন পেয়েছেন ৯১,৬৯০ ভোট। এলডিপির
মহাসচিবের পদ ছেড়ে নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে বিএনপিতে আসা ড. রেদোয়ান
আহমদে পেয়েছেন ৪৮,৫০৯ ভোট।
মনোনয়ন বৈধতার আইনী লড়াইয়ে ভোটের আগেই
বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সিকে ধরাশায়ী করেছিলেন এনসিপির হাসনাত
আবদুল্লাহ। আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীশুন্য হওয়ার পর ভোটের মাঠে টিকে থাকতে
গণ অধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েও কোন লাভ হয়নি বিএনপির। জানা
গেছে দেবিদ্বারের ১১৬টি কেন্দ্রের সব ক’টিতেই বিজয়ী হয়েছেন জুলাই যোদ্ধা
হাসনাত। তাদের দুজনের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি।
তবে ভোটের
লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবধান রচনা করেছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী
জাকারিয়া তাহের সুমন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের শফিকুল
আলম হেলাল পেয়েছেন ৪৫০৯১। বিপরীতে ধানের শীষ প্রতীকের সুমনের প্রাপ্ত ভোট
১,৬৯,১৭৮। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন এর
আগেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শফিকুল আলম হেলাল এবারই প্রথম জাতীয়
নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ২টি আসনে বিজয়
ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াত-এনসিপির ১১ দলীয় জোট। ১টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী
প্রার্থী বিজয়ী হলেও বাকী সব আসনেই প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে বিএনপি। এই
নির্বাচনে কুমিল্লা হয়ে উঠেছিল চমক-লড়াই-ব্যবধানের মেলা। বিএনপির মূল শক্তি
অক্ষুণ্ণ থাকলেও বিদ্রোহী ও জোট প্রার্থীদের জয় দেখিয়ে দিয়েছে ভোটের মাঠ
কতটা অনিশ্চিত ও রোমাঞ্চকর হতে পারে।
