প্রথমার্ধেই
তিন গোল করে কাজ সেরে ফেলল ম্যানচেস্টার সিটি। তাতে ক্যারাবাও কাপের
সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের মাঠে নিউক্যাসল
ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে (দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে) হারিয়ে জয় তুলে নিয়ে
ফাইনালে উঠেছে পেপ গার্দিওলার দল। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ প্রিমিয়ার লিগের
শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। ভেন্যু ওয়েম্বলি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী
ছিল সিটি। প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যেই জোড়া গোল করে নিউক্যাসলের সব আশা কার্যত
শেষ করে দেন ওমর মারমুশ। এরপর তিজ্জিয়ানি রেইন্ডার্স গোল করে ব্যবধান আরও
বাড়ান। প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে।
মারমুশের
জন্য এটি ছিল দারুণ এক রাত। মূল একাদশে তিনি সুযোগ পান আরলিং হালান্ডের
বদলে। নরওয়েজিয়ান তারকা এদিন বেঞ্চে ছিলেন, সম্ভবত লিভারপুলের বিপক্ষে
আসন্ন লিগ ম্যাচের কথা ভেবেই তাকে বিশ্রাম দেন গার্দিওলা।
ম্যাচের সপ্তম
মিনিটেই মারমুশ ভাগ্যের সহায়তায় প্রথম গোলটি করেন। বক্সে ঢুকে ড্যান
বার্নের চ্যালেঞ্জে বল হারালেও তা তার পায়ের শিনে লেগে গোলরক্ষক অ্যারন
র্যামসডেলের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় গোলেও
ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। তবে কাছ থেকে হেডে ভুল করেননি মারমুশ।
রেইন্ডার্সও
ছিলেন দারুণ কার্যকর। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তৃতীয় গোলটির সূচনা
করেন তিনি নিজেই। পরে নিজেই ফিনিশ করেন। এই গোলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল
হয়ে যায় নিউক্যাসলের জন্য।
এর ওপর বিরতির আগেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন
অ্যান্থনি গর্ডন। যা নিউক্যাসল শিবিরের হতাশা আরও বাড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে সিটি
কিছুটা ঢিমেতালে খেললেও ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। একপর্যায়ে অ্যান্থনি
এলাঙ্গা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একটি গোল শোধ দেন। যা অতিথি সমর্থকদের সাময়িক
আনন্দ দেয়।
শেষদিকে নিউক্যাসল আরও চাপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও বড় ক্ষতি
করতে পারেনি। বরং বদলি হিসেবে নামা হালান্ড শেষ দিকে দু’বার গোলরক্ষককে
পরীক্ষা করেন।
সব মিলিয়ে দুই লেগেই আধিপত্য দেখিয়ে ফাইনালে উঠল
ম্যানচেস্টার সিটি। নিউক্যাসলের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন এখানেই শেষ। আর
সিটির সামনে এখন ওয়েম্বলিতে আর্সেনালের বিপক্ষে আরেকটি বড় মঞ্চের অপেক্ষা।
