
৫-১১
ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে এশিয়ান রোড সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশের দুই
নারী ও পুরুষ সাইক্লিস্টের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার কথা। ফেডারেশন
নির্দিষ্ট সময় ভিসা ও নানা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে না পারায় বাংলাদেশের
সাইক্লিস্টরা এশিয়ান পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না।
এশিয়ান রোড
সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য আয়োজকরাই ভিসার ব্যবস্থা করেছিলেন। এজন্য
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাইক্লিস্টদের নাম এন্ট্রির বাধ্যবাধকতা ছিল।
বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশন সেটি পারেনি। এ নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক
আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এশিয়ান রোড চ্যাম্পিয়নশিপে কারা খেলবেন
এজন্য একটি ট্রায়াল প্রয়োজন। সেই ট্রায়াল আয়োজনের প্রয়োজনীয় সময় ও স্থান
আমরা দুই দফা পরিবর্তন করেছে নানা কারণে। আয়োজকদের অনুমতি এবং সম্মতি নিয়েই
১০ জানুয়ারি আমরা ট্রায়াল সম্পন্ন করি। এরপর পোর্টালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া
আর হয়নি আয়োজকরা বলছে সময় শেষ এখন সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা করতে।’
সৌদি
আরবে ক্রীড়া ইভেন্ট হলে সংশ্লিষ্টদের ভিসা সৌদি আরবই প্রেরণ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের ভিসা
সৌদি আরব থেকে নির্দিষ্ট সময়েই এসেছে। সাইক্লিং ফেডারেশন বিলম্ব করায়
বিড়ম্বনায় পড়েছে।
মাস খানেক আগে ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের সঙ্গে
যোগাযোগের নির্দেশনা দিয়েছিল সৌদি আরব সাইক্লিং ফেডারেশন। তিন সপ্তাহ
পেরিয়ে গেলেও সেই ভিসার আবেদনও করতে পারেনি ফেডারেশন। এ নিয়ে ফেডারেশনের
সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্য, ‘আয়োজকরা যখন বলল তারা ভিসা দিতে পারবে না। ঢাকা
দূতাবাসে যোগাযোগ করতে আমরা সেখানে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে আমাদের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ কিছু কাগজপত্রের নির্দেশনা দেয়। যোগাযোগ ও
চিঠি চালাচালির পর সেই কাগজগুলো প্রক্রিয়া শুরু করি। সরকারি আদেশের জন্য
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবেদন করেছিলাম। কয়েক দিন পর মন্ত্রণালয় থেকে জিও
পাওয়া যায়।’
এশিয়ান রোড চ্যাম্পিয়নশিপে খাগড়াছড়ি জেলার শাহাদাত হোসেন
আরিফ, রাকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ আর্মিও সুবর্ণা বর্মা, বিজিবি’র রাহেলা
খাতুনের অংশ নেয়ার কথা ছিল। এশিয়ান পর্যায়ে বাংলাদেশের সাইক্লিংয়ের
প্রতিনিধিত্ব করলেও ফেডারেশন তাদের কোনো আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে না আগেই
জানিয়েছে। এরপরও তারা সাইক্লিংকে ভালোবেসে নিজেরাই অর্থ সংস্থান করে যেতে
চেয়েছিল। ভিসা ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ না নিতে পেরে
সাইক্লিষ্টরা বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
ফার্মেসির মতো বিষয়ে পড়াশোনা করে হাসপাতালে উন্নত চাকরি ছেড়ে সাইক্লিংই
ধ্যানজ্ঞান রাকিবুল ইসলামের। এশিয়ান রোড চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ মিস
করায় রাকিব দুঃখ প্রকাশ করলেন এভাবে, ‘এশিয়ান রোড চ্যাম্পিয়নশিপে যেখানে
ফেডারেশন কিংবা সরকারের অর্থায়নে সাইক্লিস্টদের খেলার কথা সেখানে
সাইক্লিস্টরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যেতে রাজি হয়েছে। ভিসা তো আর খেলোয়াড়
নিজে করতে পারে না। ফেডারেশনের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়। আয়োজকদের
সরাসরি ভিসা পাওয়া যায়নি, এরপরও প্রায় এক মাস হলেও ভিসার আবেদনও করা গেল না
এটা খুবই দুঃখজনক। দেশের স্বার্থেই ফেডারেশনের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া
উচিত।’
