শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
১৭ মাঘ ১৪৩২
গণভোট ইস্যুতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৯ এএম |

গণভোট ইস্যুতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সারা দেশে গণভোট নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার গণভোটের আয়োজন করছে। গণভোটের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো জনগণ-সমর্থিত কি না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়ায় আসন্ন গণভোটে নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান, তথা নির্বাচনে রক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন, তাদেরই একটি নির্দিষ্ট পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য করায় গণভোট আর প্রকৃত অর্থে জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের ভেতরেই। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচনে সরকারের নির্দেশ পালন করে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার বৈধ হয়, তাহলে অতীতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের অভিযোগে কর্মকর্তাদের শাস্তি বাধ্যতামূলক অবসর বা ওএসডি করার সিদ্ধান্তগুলো ছিল স্ববিরোধী, কারণ সে সময়ও তারা তৎকালীন সরকারের নির্দেশ পালন করেছেন। পাশাপাশি ২০১৮ সালের নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরও এবার মাঠ প্রশাসনের কোথাও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেশের সব সরকারি দপ্তরকে গণভোট ২০২৬ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, জনবহুল স্থানে ব্যানার-পোস্টার, যানবাহনে লিফলেট প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই বলছেন, সরকার নিজেই একটি পক্ষ হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় গণভোট আদৌ জনমত যাচাইয়ের নিরপেক্ষ মাধ্যম থাকবে না, অন্য কিছু হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর বিধি ২৫-এর উপবিধি ৩-এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বাংলাদেশ অথবা অন্য কোথাও কোনো আইন পরিষদের নির্বাচনে কোনো প্রকার প্রচার অথবা অন্য কোনোভাবে হস্তক্ষেপ বা প্রভাব প্রয়োগ অথবা অংশগ্রহণ করবেন না।
গণভোট আইন পরিষদের নির্বাচন নয়, কর্মকর্তারা মনে করেন একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন এবং এতে কোনো বাধা নেই। অনেকেই মনে করছেন সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের প্রচারে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। সরকার নির্দেশ দিলেও আচরণবিধি অনুযায়ী অনেক কর্মকর্তা তা মানতে বাধ্য নন বলেও কেউ কেউ মনে করেন। ভোটারদের সরাসরি নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং প্রচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যাঁ ক্যাম্পইনটি মূলত নতুন শাসনব্যবস্থা ও সংস্কারের প্রতি জনগণের সম্মতি অর্জনের একটি গণতান্ত্রিক উদ্যোগ।
এ বিষয়ে সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, গণভোট আইন পরিষদের নির্বাচন নয়, তাই আইনগত বাধা না-ও থাকতে পারে। তবে নৈতিকভাবে নিজে একটি পক্ষ হয়ে কর্মকর্তাদের সেই পক্ষে নামানো সরকারের উচিত হয়নি। এটি জনগণের ওপর ছেড়ে দিলে ভালো হতো। এ কারণে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সরকারি নির্দেশ পালনের অভিযোগে একবার বেশ কিছু কর্মকর্তাকে যে ওএসডি করা হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর নজির স্থাপন হয়েছে, ভবিষ্যতেও বর্তমান সরকারের নির্দেশে ভোটে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিরপেক্ষ না থেকে একটি পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে যেসব নির্দেশনা ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থি তা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নৈতিকতাবিরোধী। দেশে আগেও এমন নজির রয়েছে, এ কারণে বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রশাসনের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, পরবর্তী সরকার এসেও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের কারণে এমন শাস্তি পেতে হতে পারে। কাজেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দেশের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই কাম্য। এ ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, গণভোট ইস্যুতে সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
আজ কুমিল্লায় আসছেন জামায়াত আমীর
লাখো জনতার ঐতিহাসিক জনসভা হবে টাউন হল মাঠে-দ্বীন মোহাম্মদ
আবদুস সামাদ ফাউন্ডেশন আয়োজনে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
নাঙ্গলকোটে পুকুর থেকে ৪দিন পর অটোরিক্সা চালকের লাশ উদ্ধার
কুমিল্লা-১০ ও ৪ আসন বিএনপির ৩ প্রার্থীর প্রার্থিতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে রোববার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় দুই দিনে চার সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন জামায়াত আমির
৩৪৩ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর খোঁজে কুমিল্লার পুলিশ
উন্নয়নের রোডম্যাপ তুলে ধরলেন মনির চৌধুরী
আগে বাসের ভেতর থেকে নামেন, বাংলাদেশকে চিনেন
কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের জন্য ভোট চাইলেন গায়ক আসিফ
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২