রণবীর ঘোষ কিংকর।
কুমিল্লার
চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামে সম্প্রতি একের পর এক
চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্কে পড়েছেন গ্রামবাসী। গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ সংযোগের
তার, ব্যাটারি, বাল্ব ও খামারের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় ক্ষতির মুখে
পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মো. তানভীরের
তিনটি মুরগির ফার্ম থেকে ৪০ কয়েল বৈদ্যুতিক তার, ২০০টি বাল্ব ও একটি মটর
চুরি হয়েছে। একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের গরু ও মুরগির ফার্ম থেকে চুরি হয়েছে
দুটি আইপিএস ব্যাটারি। আ. মালেকের মটরের বৈদ্যুতিক তার, মাওলানা আবুল
হাসেমের দেড় কয়েল বৈদ্যুতিক তার এবং মো. হোসেনের মেশিনের ব্যাটারিও চোরের
কবলে পড়েছে।
চুরির ঘটনা পাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। গাবগাছিয়া গ্রামের
মাওলানা নজরুল ইসলামের তিন কয়েল বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। একইভাবে রোবেল
মিয়ার দুই কয়েল এবং মোবারক হোসেনের দুই কয়েল বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার
অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মো. তানভীর অভিযোগ করে বলেন, “বারবার
চুরির ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। খামার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিনি এ ঘটনায় জামিরাপাড়া গ্রামের মৃত মন্তাজ মিয়ার ছেলে মো. হেলাল এবং ধনু
মিয়ার ছেলে মো. রাসেলকে অভিযুক্ত করেছেন।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন,
মাওলানা আবুল হাসেম,মো. হোসেন ও কামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে
চুরির ঘটনা ঘটছে। মটর,অটোরিকশার ব্যাটারি,বৈদ্যুতিক তার চুরি করছে
চক্রটি।ভাঙারি দোকানে চুরির মালামাল বিক্রি করে। তাছাড়া হাতে নাতে ধরলেও
বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় চুরির ঘটনা বেড়েই চলছে।
ভাঙারি
ব্যবসায়ী বসত আলী ও আল আমিন বলেন, অটোরিকশার ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক তার পুড়ে
নিয়ে আসে হেলাল ও রাসেল। আমরা ক্রয় করে তাদের টাকা দিয়ে দেই।চুরির বিষয়টি
পরে জানতে পারি।
সচেতন নাগরিক নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রামে চুরির ঘটনা
প্রায়ই ঘটে। হেলাল চুরির ঘটনা স্বীকার করেছে।তার সাথে রাসেলও ছিল। দ্রুত
চোরচক্র কে আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তিনি
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চান্দিনা
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকে
জানলাম। বিস্তারিত জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
