বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। দল করেন- যাই করেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই দুর্নীতি হবে সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
রবিবার দিবাগত রাত (২৬ জানুয়ারী) পৌনে ১ টায় দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে না ধরলে যত আলোচনা বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক না কেন, বাস্তব পরিবর্তন আসবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগী সংস্কার, পরিবেশ উন্নয়ন, খাল খনন এবং বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলের নির্বাচনী স্লোগান ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্মরণ করিয়ে দেন। এ সময় তিনি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চলনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল হাসেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম শামসুল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. জসিম উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ভিপি মো. জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শওগাত চৌধুরী পিটার, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, কেন্দ্রীয় যুবদলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ভিপি মো. শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আসিফ কবির, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আনোয়ার হোসেন আনন্দ প্রমূখ।
এদিকে জনসমাবেশ কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি সহ অন্যন্য সদস্যরা জোরদার করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের জন্য চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার নারী-পুরুষ জনসভাস্থলে উপস্থিত থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য শোনেন।
