কুমিল্লার
দেবিদ্বারে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালক আলাউদ্দিনকে শ্বাসরোধে
হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই
হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ও শনিবার (১৬-১৭ জানুয়ারি) পৃথক
তিনটি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
গ্রেপ্তার
ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী
গ্রামের জলফু মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন, একই গ্রামের আব্দুল কাদের মিয়ার
ছেলে মোহাম্মদ মহসিন ও কুমিল্লা অশোকতলা এলাকার মাসুদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ
আরিফ হোসেন। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো
হয়।
এ ঘটনায় গত ১৪ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা
দায়ের করেন নিহত আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার। নিহত মো.আলাউদ্দিন (২৮)
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের মো. সুলতান আহমেদের ছেলে।
নিহত
আলাউদ্দিনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে
অটোরিকশা নিয়ে বের হয় আলাউদ্দিন। এরপর রাতে তার আর খোঁজ মেলেনি। মোবাইল
ফোন বন্ধ পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে তাঁর পরিবার। কোথাও না
পেয়ে ৪ জানুয়ারি দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন
আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার। এরপর নিখোঁজের ১২ দিন পর গত সোমবার
সকালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন হিরাপুর এলাকার
বুড়ি নদীর কুচুরিপানার ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার
বিকালে নিহত আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া আক্তারবলেন, তাঁরা অটোরিকশা নিয়ে
যেত আমার স্বামীকে কেন মারল? আমার তিনটা শিশু সন্তান এতিম হয়ে গেল, আমি
এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব জানিনা। ছোট আয়শা কয়েকদিস বাবাকে না দেখে এখন
বাবাকে খোঁজে, আমার এত বড় ক্ষতি তারা কেন করল ? আমি আসামীদের ফাঁসি চাই।
দেবিদ্বার
থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চালক আলাউদ্দিন
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল
হাজতে পাঠানো হয়েছে। আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা
স্বীকার করেছে। তারা পুলিশকে জানায়, প্রথমে দেবিদ্বারের ফুলতলি এলাকা থেকে
অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় নিয়ে
আলাউদ্দিনকে। সেখানে নির্জন স্থানে শ^াসরোধে হত্যার পর মরদেহ বুড়িনদীর
কুচুরিপানার ভেতর ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আমরা তথ্য
প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে মোহাম্মদ মহসিন, চৌদ্দগ্রাম
উপজেলা থেকে জামাল হোসেন ও কুমিল্লার টমছমব্রীজ এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফ
হোসেনকে গ্রেপ্তার করি। যে অটোরিক্সার জন্য আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে
সেটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে তাদের
আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর
কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে আদালতে রিমান্ডের আবেদনের প্রস্তুতি চলছে।
