
কুমিল্লার
মুরাদনগরে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে নৃশংসভাবে
হত্যার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া
(পিপিয়াপাড়া) গ্রামে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। নিহত নিহা মনি ওই গ্রামের শরীফ
মিয়ার কন্যা। এই পৈশাচিক ঘটনায় জড়িত ঘাতক রাসেল মিয়াকে (২৩) গণধোলাই দিয়ে
পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সে একই গ্রামের নবী আলমের ছেলে।
স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
এই নরপিশাচের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী
সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৯টার দিকে শিশু নিহা মনি বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা
করার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার
কোনো হদিস পাচ্ছিলেন না। নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে
বাড়ির পাশের এনজিও ‘এসডিএফ’ কার্যালয়ের বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে
একটি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে দেখা যায়, নিহা মনির
হাত-পা এবং মুখ ওড়না দিয়ে শক্ত করে বাঁধা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা
প্রতিবেশীরা জানায়, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা
করা হচ্ছে, নির্জন ওই এনজিও অফিসের সুযোগ নিয়ে ঘাতক রাসেল মিয়া শিশুটিকে
সেখানে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে
তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ট্যাংকিতে গুম করার চেষ্টা করে।
ঘটনার
পরপরই স্থানীয় লোকজনের সন্দেহভাজন হিসেবে নবী আলমের ছেলে বখাটে রাসেল
মিয়াকে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে
মুরাদনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং
অভিযুক্ত রাসেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
এদিকে
সন্তানকে হারিয়ে মা তানিয়া আক্তার এখন পাগলপ্রায়। তিনি বারবার জ্ঞান
হারাচ্ছেন এবং জ্ঞান ফিরলেই চিৎকার করে বলছেন, "আমার মাসুম বাচ্চাটাকে কেন
এভাবে মারল? আমি রাসেলের ফাঁসি চাই।" প্রবাস থেকে বাবা শরীফ মিয়ার বুকফাটা
আর্তনাদে মোচাগড়া গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শত শত গ্রামবাসী এই
জঘন্যতম অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল
করেছেন।
নিহা মনির দাদী পারুল বেগম বলেন, আমার নাতনীসহ আশ-পাশের কয়েকটি
মেয়ে এনজিও ‘এসডিএফ’ কার্যালয়ের সামনে খেলাধুলা করছিল। ওইসময় অভিযুক্ত
রাসেল তাদের সামনে ঘুরাফেরা করছিল। কিছুক্ষণ পর নিহা মনিকে খুঁজে পাওয়া না
গেলে তার সাথের মেয়েরা জানায়, আমার নাতনীকে রাসেল ডেকে নিয়েছে।
মুরাদনগর
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জামিল খান কুমিল্লার কাগজকে বলেন, খবর
পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ
ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্ত যুবক
বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
