আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
প্রবাসীদের যে কয়েকটি ভিডিও এসেছে, সেগুলোতে নিয়মের কোনো ‘ব্যত্যয়’ ঘটেনি
বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর। তিনি বলছেন,
এক ঠিকানায় অনেক বাংলাদেশি থাকায় বিতরণের সময় এগুলো তোলা হয়েছে। তবে এখন
থেকে পরিচয় যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে পোস্টাল ব্যালট তুলে দিতে
সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বিভাগকে বলা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের
ছাড় কাউকে দেওয়া হবে না, হুঁশিয়ার করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “কেউ যেন
না ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে আর আপনারা যা ইচ্ছা তা করবেন।”
দেশের
বাইরে সকল দূতাবাস ও মিশন অফিসের প্রধানি এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা
শেষে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ এসব কথা বলেন।
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন
বাছাই শেষে আপিল নিষ্পত্তির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। একই দিন
একসঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে গণভোট হবে।
এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে
প্রবাসী ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য
বিদেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে।
এদিন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে।
পরে
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রথমবারের মতো
প্রবাসীদের ভোটদানের ‘এক্সারসাইজ’ হওয়ায় এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে
পারে। তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে এখানে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
কোনো
রাজনৈতিক দলের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের
পক্ষে হয়ে কিছু কিছু কাজ এখানে হয়েছে এবং সেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা
প্রমাণিত হচ্ছে। এখন আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আপনাদেরকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে
হবে।”
ইতোমধ্যে বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট পেপারের খাম এবং কাতারে একজনের
বাসায় বেশ কিছু ব্যালটের খাম বিতরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে।
আগারগাঁওয়ে
নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট
ডেসপ্যাচ (পাঠানো) করা হয়েছে জাানিয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন,
“একটি ভোটও এখন আমাদের কাছে নেই। সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছে গেছে ৭ লাখ ৭ হাজার
৫০০ ব্যালট। এরমধ্যে ট্রানজিটে আছে ৫৯ হাজার ৫৮৪ হাজার। আর প্রবাসী
ভোটারের হাতে পৌঁছেছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি ব্যালট। যারা হাতে পেয়ে কিউআর
কোড স্ক্যান করেছেন সেই সংখ্যা থেকে আমরা বলছি।”
ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ার
সাড়ে ৪ হাজার ব্যালট ফেরত এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এগুলোর বিষয়ে আর কিছু
করার নেই। বেশিরভাগ ফেরত এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। এরপর ফেরত আসছে ইতালি
থেকে।”
দেশের বাইরে অনেক প্রবাসী মিলে একই ঠিকানা ব্যবহার করায় বিতরণের
সময় কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছে তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের
বিশেষ করে ‘লেবার ইনটেনসিভ ডেস্টিনেশনগুলোতে’ অনেক কয়েকজন ভোটার একই
ঠিকানায় থাকেন।”
তিনি বলেন, যে কোনো দুইজন ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার
করেছেন, এরকম ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০। পাঁচজন পর্যন্ত একই
ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ৯৫ হাজার ৮১৬ জন। ১০ জন ভোটার একই ঠিকানায়, এই
সংখ্যা ৫৯ হাজার ২৭৬। আবার একই ঠিকানায় ২০ জন ভোটার আছেন, এই সংখ্যা ৩৮
হাজার ১০৯। ২০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন এমনও রয়েছে,
এই সংখ্যা হচ্ছে ২১ হাজার ৯১৫। ৫০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত একই ঠিকানায় রয়েছেন
বা একশ’র বেশি জন একই ঠিকানায় রয়েছেন, এরকম ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯১।
ইসি
সানাউল্লাহ বলেন, “বাস্তবতা হচ্ছে তারা স্বল্প পরিসরে থাকেন। তাদের নিজস্ব
কোনো ঠিকানা নেই। এইক্ষেত্রে তারা কোনো পোস্টবক্স বা নিকটস্থ কোনো দোকান
বা কোনো ফ্যাসিলিটির ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, যেখানে চিঠি সরবরাহ করা যায়।”
সেইসব ভিডিও নিয়ে যা বললেন-
সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আসা ভিডিওগুলোর বিষয়ে নির্বাচন
কমিশনার বলেন, “নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আপনারা হয়তো
দেখেছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। এই বিষয়টির
স্বরূপ জানার জন্য আমরা সব দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। এরকম আমরা তিনটি
জায়গার ভিডিও ‘এভিডেন্স’ পেয়েছি, কিন্তু এই ‘এভিডেন্সের’ কোথাও কোনো
ব্যত্যয় হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
বাহরাইনের একটি ভিডিও ১১ জুনায়ারি পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা হতে পারে ১৬০ বা ২৩৩।
দূতাবাস
থেকে বাহরাইনের ডাক বিভাগকে একটা নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে
নির্বাচন কমিশনার বলেন, পরবর্তীতে আবার অধিকাংশ ব্যালট দূতাবাসে ফেরত এনে
বলে দেওয়া হয়েছে আলাদাভাবে ভোটারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এখন বাহরাইন
ডাক বিভাগ পরিচয়পত্র না দেখে কাউকে ব্যালট দেবে না। তাতে কিছু ব্যালট বিলি
না হয়ে ফেরত এলেও তাতে কিছু করার নেই।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “সৌদিতে এ
ধরনের কোনো ঘটনা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই-একটা ঘটনা ঘটেছে বলে বলা
হচ্ছে। আমাদের ‘ডিসইনফরমেশন’ সেল এমন কিছু পায়নি। সম্ভবত বিষয়টি ‘ফেইক’।
সৌদি আরবে ইকামা (কাজের অনুমতিপত্র) বা ফাইভ ডিজিট কোড ছাড়া কাউকে এই
ব্যালট হস্তান্তর করা হবে না।”
আর ওমানের একটা ভিডিও এসেছে তুলে ধরে
তিনি বলেন, “এটা সঠিক। ওমানে মূলত ‘বাল্ক হিসেবে ডিস্ট্রিবিউট’ করা হচ্ছিল।
এক জায়গায় অনেকজন বাংলাদেশি থাকেন, তারা মূলত একটি পোস্টবক্স ব্যবহার
করছিলেন। এই ঘটনার পর আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট না দেখানো পর্যন্ত বিলি না
করতে বলা হয়েছে ওমান পোস্টকে। এমন কি স্বামীর ব্যালট স্ত্রীর কাছে
হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
“আর কুয়েতে একটা ভিডিও পাওয়া গেছে। তবে এখন
পর্যন্ত তার কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি। একটা বিষয় হচ্ছে কুয়েত ডাক বিভাগে
প্রচুর বাংলাদেশি পাওয়া গেছে। ওনারা হয়তো ‘সর্টিংয়ের’ সময় ভিডিও করে
ছেড়েছেন উৎসাহবশত।”
পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না,
হুঁশিয়ার করে এই কমিশনার বলেন “আবুধাবি, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়াসহ আর
কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি কোনো অবস্থাতেই যেন
‘ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি’ নষ্ট না হয়। আর দেশ হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তি ও
আমাদের শ্রমবাজার জড়িত। এখানে কোন অনাকাক্ষিত ঘটনা ঘটলে শ্রমবাজারে প্রভাব
পড়তে পারে।
“এখানে কোনো রকম কোনো ঘটনা ঘটলে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এনআইডি ব্লক করা থেকে শুরু করে ‘ক্রিমিনাল চার্জ (ফৌজদারি অভিযোগ)’ আনা হবে
তার বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে তাকে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোন ধরনের ছাড় কাউকে দেওয়া হবে না। কেউ যেন না ভাবে
নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে আর আপনারা যা ইচ্ছা তা করবেন।”
