
সহজ
ম্যাচ কিভাবে কঠিন করে জিততে হয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের থেকেই শেখা উচিত।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য চট্টগ্রাম ছুঁয়েছে শেষ
বলে।তাও ২ রান নিয়ে।২ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলে
নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করল চট্টগ্রাম।
যদিও ম্যাচের নাটকীয়তা
ছিল শুরু থেকে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ধস নামে
চট্টগ্রামের ইনিংসে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর আবার ১৬ রানে ৩ উইকেট
হারায় তারা।নানা কিছুর পর শেষ ওভারে জয়ের জন্য লাগে ১০ রান। হাসান নওয়াজ ২
রান নিয়ে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
সহজ
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে ২৪ রান তুলে নেন রসিংটন ও নাঈম। কিন্তু
এরপর চরম ব্যাটিং ধস। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বল থেকে পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয়
বলে যেতেই ৪ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম।
শুরুটা রসিংটনকে দিয়ে। মেহরবের বল
উড়াতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ১৭ রানে। দুই বল পর জয় ফিরতি ক্যাচ
দেন মেহরবকে। পরের ওভারে বিনুরা ফার্নান্দো নাঈম শেখকে এলবিডব্লিউ করার পর
সাদমানকে দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন। ৬ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়ে যায়
চট্টগ্রাম।
সেই চাপ সামলে মাহেদী ও হাসান ৪০ বলে ৪০ রান যোগ করেন। লেগ
স্পিনার লামিচানের বলে মাহেদী ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করার পর আউট হলে
আসিফ আলী ক্রিজে এসে ২৭ রান যোগ করেন। এরপর আবার নাটকীয়তা ছড়ায়। আসিফ, আমের
ও আবু হায়দার ১৬ রানের ব্যবধানে দ্রুত আউট হলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায়
১০ রানে।
আক্রমণে আসেন স্পিনার মেহরব। শুরুর ৩ বলে দুইটি ডাবল ও একটি
চারে হাসান নওয়াজ ৮ রান তুলে নেন। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম বলে কোনো রান
পাননি তিনি। পেণ্ডুলামে ঝুলতে থাকে ম্যাচ। এবার রাজশাহীরও জয়ের সম্ভাবনা
জেগে উঠে। কিন্তু স্নায়ু স্থির রেখে হাসান বল লং অনে পাঠিয়ে দৌড়ে দুই বার
প্রান্ত বদল করেন। তাতে চট্টগ্রামের পঞ্চম জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ১০ পয়েন্ট
নিয়ে তারা এখন টেবিলের শীর্ষে। ১ উইকেট ও ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে
ম্যাচ জয়ের নায়ক হাসান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর
শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা মোহাম্মদ ওয়াসিম
দ্বিতীয় ওভারে পেসার আবু হায়দার রনিকে দুটি ছক্কা উড়ান চোখের পলকে। মনে
হচ্ছিল আজও তার ব্যাটে প্রত্যাশামাফিক রান আসবে। কিন্তু চতুর্থ ওভারে
তাকে আটকে দেন স্পিনার তানভীর।
বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে
ওয়াসিম বোল্ড হন ১৯ রানে। তিনে নামা অধিনায়ক নাজমুল ৭ রানের বেশি করতে
পারেননি। হাসান নওয়াজকে উড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন। সীমানায় দারুণ
ক্যাচ নেন আমের জামাল।
৬ ওভার শেষ রাজশাহীর রান ছিল ২ উইকেটে ৪২।
রাজশাহীর শক্তি দলের মিডল অর্ডার। কিন্তু আজ মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা
একেবারেই ফ্লপ।বিশেষ করে পেসার আমের আক্রমণে আসার পর পথ হারাতে থাকেন
তারা।
শুরুটা তানজিদ হাসানকে দিয়ে। নিজের প্রথম ওভারে আমের ফেরান
তানজিদকে। চরম ফর্মহীনতায় থাকা তানজিদ ১২ বলে ৫ রান করেন।পারফরম্যান্সের
ডালা মেলতে ব্যর্থ হন মুশফিকুর। আমেরের দ্বিতীয় ওভারে মুশফিকুর ১৫ রানে
ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।
পরের তিন ব্যাটসম্যানও নিতে পারেননি
দায়িত্ব। রায়ান বার্ল (১১), এসএম মেহরব (১৯) ও আকবর আলী (১৭) ভালো শুরুর পর
আটকে গেছেন। মিডল অর্ডারে তাদের পাঁচ ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘর
ছুঁয়েছেন।কিন্তু কেউ বিশের ঘর পেরোতে পারেননি। তাতে রাজশাহীর বড় রানের
সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে তানজিম হাসান ১৪ রান করে দলের রান কিছুটা
বাড়িয়েছেন। নয় তো লড়াই করার মতো পুঁজিও পেত না রাজশাহী।
চট্টগ্রামের
সেরা বোলার আমের। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচেও পেয়েছিলেন ৩
উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ও তানভীর। ১৩ উইকেট নিয়ে শরিফুল এখন
উইকেট শিকারে সবার চেয়ে এগিয়ে।
