
নিজস্ব
প্রতিবেদক।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধতা নিয়ে
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি আপিলের
হিড়িক পড়েছে। জেলা জুড়ে আলোচিত ১১টি সংসদীয় আসন থেকেই একের পর এক আপিল জমা
পড়ায় নির্বাচন কমিশনকেন্দ্রিক তৎপরতা বেড়েছে বহুগুণ। শুক্রবার পর্যন্ত
কুমিল্লার বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন বাতিল ও বৈধতার বিরুদ্ধে মোট ২২টি আপিল
দাখিল হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। শেষ দিনে দুই প্রার্থীর
মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে নতুন করে আপিল জমা পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ
করেছে। হেভিওয়েট প্রার্থী থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের
প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ ঋণখেলাপি, তথ্য গোপন, দ্বৈত
নাগরিকত্ব ও আর্থিক অনিয়ম নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। আপিল শুনানি শুরু
হওয়ায় এখন সব নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। যা কুমিল্লার
নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ৯ জানুয়ারি কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার
আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আবুল হাসানাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) এর মনোনয়ন
বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল
আহসান মুন্সী। এদিন কুমিল্লা-৬ সদর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির
প্রয়াত চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের মনোনয়ন বৈধতার
বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী।
কুমিল্লা
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন
কমিশনে দাখিলকৃত এসব আপিলের শুনানি শুরু হচ্ছে আজ শনিবার থেকে। সকাল ১০টা
থেকে শুরু হওয়া এ আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে
কুমিল্লা থেকে আপিলগুলোর মধ্যে শনিবার এবং রবিবারে দুইদিনে শুনানি হবে ৬টি
আপিল।
তথ্যগুলো নিশ্চিত করে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোঃ
হাবিবুর রহমান বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত কুমিল্লার ১১ টি সংসদীয় আসনে বাদ পড়া
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২২টি এর বেশি আপিল
জমা পড়েছে। শনিবার এবং রবিবার কুমিল্লার ছয়টি আপিলের শুনানি হবে। ১৮
জানুয়ারি শুনানির দিন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সেগুলোরও শুনানি হবে। এ দুইদিন
আমাদেরকে নির্বাচন কমিশনে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে।
সূত্র মতে,
কুমিল্লার ১১ টি আসনের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন বাতিল এবং
বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহ মোফাজ্জল হোসেন
কায়কোবাদ, কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল
আহসান মুন্সীর, কুমিল্লা-৬ সদর আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক
চৌধুরী, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুল
হুদার প্রার্থিতার বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে। তাদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে ঋণখেলাপির তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সরকারি
অর্থ আত্মসাৎ সহ আরো নানা অভিযোগ।
এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে
কুমিল্লা ৩ মুরাদনগর আসনের জামায়েত মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল, কুমিল্লা-
৯ লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা,
কুমিল্লা-৬ সদর আসনের বাসদের প্রার্থী কামরুন নাহার সাথী, একই আসনের ইসলামী
আন্দোলনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ, কুমিল্লা-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলনের
আব্দুল করিম।
