
ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ২৭ দিন অতিবাহিত হলেও খুনিরা
গ্রেপ্তার না হওয়া এবং তাঁর স্মরণে আঁকা গ্রাফিতিতে দুর্বৃত্তদের কালি
লেপনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুমিল্লা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর
প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও রাজপথ অবরোধ করেন
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৮
ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ
শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ হয়ে কান্দিরপাড়ে আসে। এসময় বিক্ষুব্ধ
শিক্ষার্থীরা কান্দিরপার পূবালী চত্বরে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে
যায়। সড়ক অবরোধ করে তারা খু*নিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে
থাকেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’
নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, "হাদি হত্যার ২৭ দিন
পার হয়ে গেলেও প্রশাসন এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। খুনিরা
প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব। নির্বাচনের ডামাডোলে কি
বিচারব্যবস্থা থমকে যাবে?" তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত
খুনিরা আইনের আওতায় না আসবে, ততক্ষণ তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
আন্দোলনের
অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ওসমান হাদির স্মৃতি রক্ষার্থে আঁকা
গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র নষ্ট করার বিষয়টি। শিক্ষার্থীরা জানান, ওসমান হাদির
স্মরণে এবং বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি অঙ্কন করা
হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সেই গ্রাফিতিতে কালো রং লেপন করে
তা মুছে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন,
"সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে কালো কালি দিয়ে হাদি ভাইয়ের স্মৃতি মুছে দিতে
চায়। আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই, কোনো অপশক্তির গোলামি আমরা মেনে নেব না।
একজন হাদিকে হত্যা করলেও আজ বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ হাদি জন্ম নিয়েছে।"
শিক্ষার্থীরা
দাবি নিয়ে বলেন, ওসমান হাদি হত্যার মূল হোতাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত
করা। ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি নষ্টকারী দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক
পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, সরকার ও প্রশাসন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত
থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ
হচ্ছে। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, দাবি আদায় না
হওয়া পর্যন্ত তাদের এই রাজপথের আন্দোলন চলবে।
