কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের
চেষ্টা এবং নিয়মবহির্ভূত বিলের সুপারিশ না করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে
মারধরের হুমকির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার রজ্জব হোসেন রাজুর
বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মুরাদনগর উপজেলার
শ্রীকাইল-গাজীরহাট সড়কসহ দুটি সড়ক প্রকল্পের কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
রাহাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রজ্জব হোসেন রাজু। এর মধ্যে একটি
প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ কিলোমিটার এবং অপরটি কুড়াখাল বি-চাপিতলা পর্যন্ত
৮২২ মিটার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীকাইল কলেজ থেকে গাজীরহাট
পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় সোয়াদ এন্টারপ্রাইজ। তবে
বাস্তবে কাজটি বাস্তবায়ন করেন রজ্জব হোসেন রাজু। কাজ সম্পন্ন না করেই তিনি
বিল উত্তোলনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিলের সুপারিশে
অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ
রয়েছে।
অন্যদিকে, কুড়াখাল-বি-চাপিতলা সড়কের ৮২২ মিটার প্রকল্পে
নির্ধারিত সময় ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই প্রায় ৫০০
মিটার কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের চেষ্টা চালানো হয়।
প্রকল্প পরিদর্শনে
দেখা গেছে, কাজের গুণগত মান ও পরিমাণ ওয়ার্ক অর্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
নয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বিল
অনুমোদনে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার রাজু ও তার
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে
মানববন্ধন করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীকাইল গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
“সড়কটি
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। বরাদ্দ আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার
হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারের অবহেলায় কাজ না হওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়,
যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
কুড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা সুজন মুন্সি বলেন,
“অসম্পূর্ণ ও নি¤œমানের কাজের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে আরও
জানা গেছে, রজ্জব হোসেন রাজু ঠিকাদারি কাজের লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে
বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং
একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
তবে প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান,
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী কাজের গুণগত মান ও পরিমাপ সন্তোষজনক না হলে কোনো
অবস্থাতেই বিল ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।
অভিযোগের বিষয়ে রজ্জব হোসেন রাজু
বলেন, “আমি বিলের জন্য কাজ শেষ করতে পারিনি। যতটুকু কাজ হয়েছে, তা নিয়ম
অনুযায়ী হয়েছে। বিল পেলে বাকি কাজ শেষ করে দেব।”
মুরাদনগর উপজেলা
প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, “ঠিকাদার ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ
সম্পন্ন করেননি এবং নির্ধারিত সময়ও অতিক্রম করেছেন। এ কারণে বিল দেওয়ার
প্রশ্নই ওঠে না। বরং বিধি অনুযায়ী তার কাছে জরিমানার টাকা পাওনা রয়েছে।
শ্রীকাইল-গাজীরহাট সড়কের ২ কিলোমিটার কাজ ঠিকাদারের অপারগতায় বাতিল করা
হয়েছে। সেই কাজের বিল দাবি করাও সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।”
