কুমিল্লা
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার দেয়ালে অঙ্কিত ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির গ্রাফিতিতে কালো রঙ নিক্ষেপ করেছে
দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতিটি বিকৃত
অবস্থায় দেখতে পান। হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আঁকা এই শিল্পকর্ম নষ্ট করার
ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি
হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ শরীফ
ওসমান হাদির স্মরণে ও তাঁর হত্যার বিচারের দাবিতে কলেজের দেয়ালে এই
গ্রাফিতিটি অঙ্কন করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকালে দেখা যায়, হাদির
প্রতিকৃতি এবং স্লোগান লক্ষ্য করে লিকুইড কালো রঙ নিক্ষেপ করা হয়েছে।
গ্রাফিতি
অঙ্কনকারী শিক্ষার্থী অরণ্য আহমেদ বলেন, "অঙ্কন শেষ করার চতুর্থ দিন
সকালেও একবার মুখ বরাবর রঙ মেখে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন আমরা তা
সংস্কার করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিই। কিন্তু আজ সকালে এসে দেখি, আবারও রাতের
আঁধারে প্রতিকৃতি ও স্লোগান ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা ওসমান
হাদির দর্শনকে ভয় পায়, তারাই এসব করছে।"
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা একে "গণতান্ত্রিক চর্চায় হস্তক্ষেপ" বলে অভিহিত করছেন।
কুমিল্লা
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক গোলাম মুহা. সামদানী বলেন, যারা গ্রাফিতি মুছে
ফেলতে চায়, তারা স্বৈরাচারের দোসর। কুমিল্লার মানুষ হাদিকে হৃদয়ে লালন করে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করতে আমাদের টিম কাজ করছে।
বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলন সাবেক নেতা ও কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয় রাশেদুল
হাসান বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন আধিপত্যবাদবিরোধী কণ্ঠস্বর। এই ন্যাক্কারজনক
কাজ কেবল আধিপত্যবাদের অনুসারীদের দ্বারাই সম্ভব। আমরা এর আইনি ব্যবস্থা
নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাশার ভূঁঞা বলেন, ওসমান হাদি আমাদের চেতনার
একটি অংশ। তাঁর গ্রাফিতিতে রঙ নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি সুস্থ
ধারার রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে
পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে
গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ
পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
