বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট বা
গ্রস রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের গ্রস
রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের
মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বুধবার (৭ জানুয়ারি)
সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের
২২ ডিসেম্বর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র
১৫ দিনের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো
থেকে ডলার কেনার কারণেই রিজার্ভে এই উল্লম্ফন ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায়
ডলারের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। ডলারের দাম যেন অতিরিক্তভাবে কমে না
যায়— সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ
করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম
ছয় মাসে (জুলাই থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৩ দশমিক ৫৪
বিলিয়ন ডলার কিনেছে। এর মধ্যে নতুন বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম
কয়েক দিনেই কেনা হয়েছে ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক
কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে এবং বৈদেশিক
লেনদেনে বড় কোনো ধাক্কা না এলে আগামী দিনগুলোতেও রিজার্ভ পরিস্থিতি ইতিবাচক
ধারায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
৬ দিনে ৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, প্রবৃদ্ধি ৭০ শতাংশ
চলতি
বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে জোরালো গতি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারির প্রথম ছয় দিনে
দেশে এসেছে ৭৭ কোটি (৭৭০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা আগের
বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য
অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি একদিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ৬০ লাখ (১৬৬
মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারির ১ থেকে ৬
তারিখ পর্যন্ত সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৫ কোটি ৩০ লাখ (৪৫৩ মিলিয়ন) ডলার।
সেই হিসাবে জানুয়ারির শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।
বাংলাদেশ
ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ৬
জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৭ দশমিক ০৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে ৬ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত) এই
অঙ্ক ছিল ১৪ দশমিক ২২৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স
প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের
ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে আগ্রহ বৃদ্ধি, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে
নীতিগত সহায়তা এবং হুন্ডি দমনে কঠোরতার ফলে রেমিট্যান্সে এই ইতিবাচক
প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও
শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
