কুমিল্লা
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ
মামুনের নির্দেশে মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২২ নম্বর
ওয়ার্ডের পদুয়ার বাজার বিশ^রোড ফুটওভারব্রীজে বৈদ্যুতিক লাইট স্থাপন করা
হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত উক্ত ফুটওভারব্রীজ ব্যবহারকারিরা সন্ধ্যার পর থেকে
অন্ধকারের মধ্যে চরম ভোগান্তি নিয়ে ফুটওভারব্রীজ ব্যবহার করে আসছিলেন।
প্রায়ই রাতের অন্ধকারের ফুটওভারব্রীজে পথচারীদের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন
ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বৈদ্যুতিক লাইট
স্থাপনের পর ফুটওভারব্রীজ ব্যবহারকারীদের উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
সূত্র
জানায়, কুমিল্লা সড়ক বিভাগ পথচারীদের মহাসড়ক পারাপারের সুবিধার্থে ফোরলেন
হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার
বাজার বিশ^রোড এলাকার ফুটওভারব্রীজটি নিমার্ণ করেন। ফুটওভারব্রীজটির সিড়ি ও
পাঠাতনে বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকজন পথচারির পা কেটে আহত হওয়ার
সচিত্র সংবাদ সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক, ভোরের ডাক, মুক্ত খবর ও
স্থানীয় দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে কুমিল্লা সড়ক বিভাগ গত
অর্থ বছরে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এটি মেরামত করেছেন।
ইতিপূর্বে ফুটওভারব্রীজটির উপরের অংশ খোলা থাকায় রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে
পথচারিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে সড়ক বিভাগ ফুটওভারব্রীজটির
উপর ছাউনি দেয়ার ফলে পথচারিরা স্বাচ্ছন্দে এটি ব্যবহার করতে পারছেন।
এলাকাবাসী এব্যাপারে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রতি
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
বরুড়া উপজেলার ভাউকসার গ্রামের মো. খন্দকার
বাবর হোসেন কুমিল্লার কাগজকে জানান, আগে সন্ধ্যার পর ফুটওভারব্রীজ পার হতে
অনেক সময় মোবাইলের টর্চ জালিয়ে পার হতে হত। আজ বৃহস্পতিবার আর সেরকম করতে
হয়নি। লাইর্টিং করার ফলে ছিনতাইকারীদের আনাগোনাও এবার কমে যাবে। এখানে
প্রায় রাতেই সুযোগ বুঝে পথচারিদের মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিত
ছিনতাইকারিরা।
লাকসাম উপজেলার পরানপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ
কুমিল্লার কাগজকে জানান, তিনি বাড়িতে যাওয়ার পথে বিশ^রোড ফুটওভারব্রীজটি
পার হয়ে গাড়িতে উঠতেন। আলো না থাকায় প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে সেটি পার হতেন। এখন
আর সে সমস্যাটি হবে না।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কর নির্ধারণ
কর্মকর্তা ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন
ভূঁইয়া, লাইসেন্স কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম চৌধুরী ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের
সচিব মো. আরিফ হোসাইন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈদ্যুতিক লাইট জ¦ালানোর পর
ফুটওভারব্রীজ পরিদর্শন করেন। তাঁরা এসময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের
প্রশাসক মো. শাহ আলম ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ
মামুনের নিটক দ্রুত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য,
গত ৬ জানুয়ারি সকাল ৯ ঘটিকার সময় পদুয়ার বাজার বিশ^রোড এলাকায় কুমিল্লা
সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে তিনমাসব্যাপী নগরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান
পরিচালনাকালে দৈনিক ইত্তেফাকের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সংবাদদাতা ও কুমিল্লার
কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মো. মিজানুর রহমান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুনের নিটক
ফুটওভারব্রীজটিতে লাইর্টিং করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোহাম্মদ ইউসুফকে
দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন। যার ফলে মাত্র ৪৮
ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হল ফুটওভারব্রীজটিতে।
