জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স দ্বিতীয়
বর্ষ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধারায় পরীক্ষা বাতিলসহ
এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার
(৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এর সভায়
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও পরীক্ষা
শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত
হয়।
সভায় ২০২৩ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স দ্বিতীয় বর্ষ
পরীক্ষায় বিভিন্ন কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযুক্ত ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর
উত্তরপত্র, কৈফিয়ত পত্র, অভিযুক্তদের লিখিত জবাব এবং নকলের আলামত
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে বিধি
অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ জন
পরীক্ষার্থীকে ‘গ’ ধারায় এবং ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে ‘ঘ’ ধারায় শাস্তি দেওয়া
হয়েছে, যার আওতায় সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জন
পরীক্ষার্থীকে ‘ঙ’ ধারায় এবং ৭ জন পরীক্ষার্থীকে ‘ছ’ ধারায় শাস্তি দেওয়া
হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর
পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আরও একটি ক্ষেত্রে ১ জন
পরীক্ষার্থীকে ‘ঢ’ ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ ধারায় সংশ্লিষ্ট বছরের
পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরপর তিন বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না
ওই পরীক্ষার্থী।
এছাড়া বিবিধ আলোচনায় ২০২৪ সালের বিএসইডি পরীক্ষার একটি
ঘটনাও পর্যালোচনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিষয় কোড ৮১০
(পত্র কোড ১০০১) পরীক্ষায় অভিযুক্ত এক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র ও নকলের
আলামত পরীক্ষা করে তাকে ‘ঘ’ ধারায় শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে
তার ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির
সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষাবাতিলের
পাশাপাশি এক থেকে চার বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা
হতে পারে। তবে তালিকাভুক্ত সিদ্ধান্ত সংশোধন, সংযোজন বা বাতিলের অধিকার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর
প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নূরুল
ইসলাম, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন
প্রফেসর ড. মো. আবুদ্দারদা, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত
ডিন ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, টংগী
সরকারি কলেজ ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং পরীক্ষা
নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
