ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া সম্পদের
বিবরণী খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
একই সঙ্গে হলফনামায় কোনো অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার কথাও বলেছেন তিনি।
সোমবার
রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্টস
করাপশনের (র্যাক) নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন
তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি,
আপনারা নিজেরা পরীক্ষা করুন। যদি কোনো সম্পদ বিবরণী সন্দেহজনক মনে হয়,
তাহলে আমাদের অবগত করুন। একই সঙ্গে আমার সাংবাদিক ভাইদের প্রতিও অনুরোধ,
যদি কোথাও বড় ধরনের কারচুপি বা অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা সামনে
আনুন।”
তিনি বলেন, দুদকের আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য ও
প্রমাণ পেলে সংস্থাটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে এই সময়টাতে দুদকের
অন্যান্য কার্যক্রম কিছুটা কমিয়ে হলেও হলফনামা সংক্রান্ত যাচাই-বাছাইয়ের
কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।
আবদুল মোমেন বলেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের
জন্য আইনে নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। ফলে এখন কাজ শুরু করলেও নির্বাচনের
আগেই সব তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে যদি কেউ
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রাথমিক প্রমাণ নিয়ে আসে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব
আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এসময় তিনি দুদক বিটের
প্রতিবেদকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই দায়িত্ব আমি বরং র্যাকের
সদস্যদের দিচ্ছি। আপনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। সন্দেহ হলে এবং নির্দিষ্ট
প্রমাণ থাকলে আমাদের কাছে দিন। আমরা আমাদের আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই
প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করব।”
মতবিনিময় সভায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন,
২০২৪ এর সাম্প্রতিক সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক। বিশেষ করে
জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে বিচারক কোনো দুর্নীতিবাজকে ক্ষমা করতে পারবেন,
এমন বিধান যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চান।
এর জবাবে দুদক চেয়ারম্যান
বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নেই, আমাদের অবস্থান এখানেই স্পষ্ট।
দুর্নীতি কোনো আপসযোগ্য বিষয় নয়। যদি নতুন আইনে আপসের সুযোগ রাখার কথা বলা
হয়ে থাকে, তবুও দুদক তার মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।”
তিনি বলেন, প্রয়োজনে এই আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। তবে দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় বা সমঝোতার প্রশ্ন নেই।
নির্বাচনি হলফনামা যাচাইয়ের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না।
অতীতে
অনেক কমিটি কাজ না করেই সেগুলো শেষ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা
সময় নিয়ে দেখছি কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করা যায়। আমাদের পক্ষ থেকে এটুকু
আশ্বাস, আমরা কাজ করব।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার
(তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) অবসরপ্রাপ্ত
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ এবং সংস্থাটির সচিব মোহাম্মদ খালেদ
রহীম। এছাড়া কমিশনের চারজন মহাপরিচালকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংগঠনের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
