কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলায় বর্ষার ভরা মৌসুমেও মুরাদনগরের নদী ও খালগুলোতে অবাধে
চলছে মাছ নিধন। নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারি ও কারেন্ট জালের মতো অবৈধ সরঞ্জাম
ব্যবহার করে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে মা মাছ ও পোনা। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে
স্থানীয় জলজ প্রাণবৈচিত্র্য এবং দেশি মাছের প্রজাতি।
স্থানীয় মৎস্যজীবী
ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাবে এই
অবৈধ কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। অবৈধভাবে মাছ ধরার কারণে একদিকে যেমন
জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় জেলেদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ
বিষয়ে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা বলেন, "প্রজনন মৌসুমে এভাবে পোনা মাছ নিধন
চলতে থাকলে আমাদের জীবিকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। জলাশয়ের স্বাভাবিক
প্রজনন চক্র ভেঙে পড়ছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান
এবং সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুমন লাল দেবনাথ উভয়েই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে
অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, দেশি মাছের প্রজনন ও জলাশয়ের
ভারসাম্য রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য সংরক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে পোনা নিধন পুরো ইকোসিস্টেমে ভয়াবহ বিপর্যয়
ডেকে আনতে পারে। এর ফলে শুধু যে মাছের সংখ্যা কমবে তাই নয়, খাদ্য
নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।
এই সংকট থেকে উত্তরণে স্থানীয় নাগরিকরা
প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, অবৈধ জাল
ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে
ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। তারা চান, মুরাদনগরের জলাশয়গুলো
নিরাপদ থাকুক এবং জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ থাকুক।
