মাসুদ পারভেজ।।
কুমিল্লায়
ভাদ্রের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তাপপ্রবাহের কারণে একেবারে
প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। গত তিনদিনের তীব্র এ
গরমে অনেকেই হাঁসফাঁস করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে
খাওয়া মানুষরা বেশি বিপাকে পড়ছে।
এদিকে ঋতুচক্র অনুযায়ী এখন চলছে
শরৎকাল। কিন্তু বাহিরের তাপমাত্রার উর্ধ্বমুখী মনে করিয়ে দেয় গ্রীষ্মের
কথা। ভাদ্রের এই তালপাকা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।
বুধবার কুমিল্লার বিভিন্ন
এলাকায় বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। মেঘ-বৃষ্টির এই খেলা চললেও
কমছে না গরম। বরং গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে গরমের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
তীব্র
তাপদাহের বিষয়ে আবহাওয়াবিদরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের
চেয়ে অনেক বেশি অবস্থানে রয়েছে। সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার তাপমাত্রা
২৫–৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। রাতের তাপমাত্রাও কমছে না খুব
একটা।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভাদ্র (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) মূলত বর্ষার শেষ
অংশ। এ সময় বৃষ্টি কমে এলেও আর্দ্রতা থাকে অনেক বেশি। ফলে ঘাম বেশি হয়, আর
গরমও বেশি অনুভূত হয়। তাছাড়া বৃষ্টি কমে যাওয়ার ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকে,
সূর্যের তাপ সরাসরি মাটিতে পড়ে এবং তা থেকে তাপ বিকিরণ বাড়ে। আবার বাতাসে
জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শরীর ঘাম ঠিকমতো শুকাতে পারে না। এর ফলে গরম বেশি
লাগে, ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়ে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবের কারণে
মৌসুমগুলো একটু এলোমেলো হচ্ছে। তাই ভাদ্রেও তীব্র গরম অনুভূত হয়।
কুমিল্লা
আবহাওয়া কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, কুমিল্লায় বিদ্যমান তাপমাত্রা আরও
বেশকিছু দিন অব্যাহত থাকবে। তবে মাঝে ভারি বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা কিছুটা
কমতে পারে।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে যখন বায়ুর লঘুচাপ/নিম্নচাপ সৃষ্টি
হয় সেই সময় বাংলাদেশের স্থলভাগের উপরে বায়ুর উচ্চচাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। যে
কারণে বাংলাদেশের স্থলভাগের আকাশে মেঘ মুক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয় ও সূর্যের
সকল তাপ ভূমিতে পৌছায় ও প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া বিরাজ করে।
