সোমবার ১৭ জুন ২০২৪
৩ আষাঢ় ১৪৩১
বাজারে সবকিছুর দামই বাড়তি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ১:১৮ এএম |

  বাজারে সবকিছুর দামই বাড়তি
কোরবানি ঈদ আসতে এখনো এক মাস বাকি। কিন্তু এখনই রসুনের দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়ে গেছে। এলাচ ও জিরার দামও চড়ে গেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও কমছে না দাম। খরার অজুহাতে মুরগির দামও চড়া। পোলট্রি ২০০-২২০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকা কেজি। গ্রামাঞ্চলে খুবই কম দামে সবজি বিক্রি হলেও রাজধানীতে ৬০-৮০ টাকার নিচে মেলে না কোনো সবজি। এখনো বেগুনের কেজি ৮০-১০০ টাকা। সারা দেশে বোরো ধান উঠলেও কমছে না চালের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, গোড়াতে দাম বেশি। তাই কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
পেঁপের কেজি ৭০ টাকা:
দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে কম দামে সবজি বিক্রি হলেও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তীব্র তাপের অজুহাতে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে ৪০-৫০ টাকার পেঁপে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের কেজি ৫০-৮০ টাকা। টমেটোর কেজি ৪০-৫০ টাকা, করলা ৬০-৭০, ঢ্যাঁড়স ৪০, শিম ৪০, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০, শসা ৪০-৬০, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৬০, সজনে ডাঁটা ৮০-১২০, পটোল ৫০-৬০, গাজর ৫০, কাঁচামরিচ ১২০-১৪০, বরবটি ৫০ টাকা কেজি।
মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারের সবজি বিক্রেতা কালু মিয়া বলেন, ‘আমরাও চাই কম দামে বিক্রি করতে। কিন্তু কিনতে তো পারি না।’ কারওয়ান বাজারের আল আমিন বলেন, ‘ঈদের পর অনেক বেড়ে গেছে দাম। তাই কম দামে বিক্রি করা যায় না।’
গরুর মাংসের দামও চড়া:
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় গরুর মাংসের এখন বাড়তি দাম। ঈদুল ফিতরের পর প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৭৮০-৮০০ টাকা। কারওয়ান বাজারের মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও সেগুনবাগিচা বাজারের মোরতজা মন্টু বলেন, ৭৮০-৮০০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের মাংস বিক্রেতারা জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কিছুটা দাম বাড়তে শুরু করেছে। কমবে না দাম।
বিভিন্ন পণ্যের মতো মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের সোহেলসহ অন্য বিক্রেতারা জানান, রুই ও কাতল ৩৫০-৫৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০, পাবদা ৫০০-৭০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২৫০, শিং ও মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। পানি কমে যাওয়ায় নদী-খাল-বিলে মাছ কমে গেছে। এ জন্য দাম একটু বেশি।
আদার কেজি ৩০০ টাকা:
কোরবানি ঈদে মসলার মধ্যে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, জিরাসহ অন্যান্য মসলা বেশি দরকার হয়। এবার দেশে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তার পরও দাম কমছে না। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি তা প্রত্যাহার করলেও সেই ঘোষণার কোনো প্রভাব দেখা যায় না। কারওয়ান বাজারের মিনহাজ বাণিজ্যালয়ের খলিল বলেন, ‘ভারতের ঘোষণায় কমবে না পেঁয়াজের দাম। কারণ মৌসুম শেষ। বেপারিরা আস্তে আস্তে ছাড়বেন বাজারে।’ পাইকারিতেই ৬০-৭২ টাকা কেজি। সেই পেঁয়াজই বিভিন্ন বাজারে ৭০-৮০ টাকা কেজি।
টাউনহল বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিক বলেন, পেঁয়াজের কেজি ৭০-৮০ টাকা। অন্য খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, কমবে না পেঁয়াজের দাম।
গত সপ্তাহে ২৩০ টাকা কেজিতে রসুন বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪০ টাকা হয়ে গেছে। দেশি রসুনও ২০০ টাকা। কোথাও ২৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান। তারা জানান, কাঁচামাল সকালে এক রেট তো বিকেলে আরেক দর।
কারওয়ান বাজারের এরশাদ বলেন, ঈদের আগে আদার দাম বেড়ে গেছে। কেরালার (ভারত) আদার কেজি ৩০০ টাকা। বার্মারটা ২৮০ টাকা, চায়না আদার কেজি ২৪০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান স্টোরের শাহ আলম বলেন, এলাচের কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। ৬০০ টাকা জিরার কেজি ৭৫০-৮০০ টাকা হয়ে গেছে। তবে লবঙ্গ ও দারুচিনির দাম তত বাড়েনি।
ব্যাপকভাবে আলোচনা হলেও আলুর দাম কমেনি। তবে বাড়েওনি। টাউনহল বাজারের রফিক বলেন, বর্তমানে ৫০-৫৫ টাকা কেজি। দাম কমবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা বেশি দামে কিনেছি। আড়তেই বেশি দাম। তাই কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না।’
কমে না মুরগির দাম :
এপ্রিলে দেশে চলমান দাবদাহে খামারের মুরগি মরে যাওয়ার অজুহাতে কমে না মুরগির দাম। টাউনহল বাজারের ব্রয়লার হাউসের বেল্লাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের মতোই পোলট্রি মুরগির কেজি ২০০-২২০ টাকা, সোনালি ৩৮০-৩৯০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের কিচেন ব্রয়লার হাউসের হেফাজত বলেন, পোলট্রি ২২০ টাকা, সোনালি ৪০০ ও দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি। অন্যান্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও বলেন, তাপপ্রবাহের কারণে কয়েক দিন থেকে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম বাড়ছে। ঈদের পর ডিমের দাম ছিল ১১০-১২০ টাকা ডজন। বাড়তে বাড়তে এখন ডজন ১৪০-১৫০ টাকা হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান।
কমে না চালের দাম :
হাওরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। তার পরও চালের দাম কমছে না। আগের মতোই প্রতি কেজি নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৮০ টাকা, মিনিকেট ৭২-৭৫, আটাশ চাল ৫৫-৬০ ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান। পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি ও বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি।
কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির আলাউদ্দিন বলেন, ‘ধান উঠে গেছে। তার পরও মিলে কমছে না চালের দাম। আমাদের বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। সিন্ডিকেট করেই মিল থেকে দাম বাড়াচ্ছে। সরকার কঠোর না হলে কমবে না দাম। মিলে ধরলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এই বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির মাঈনুদ্দিনও বলেন, ‘আপনারা জানতে চান দাম কমেছে কি না। এভাবে দাম কমবে না। সিন্ডিকেট করেই চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আমনে কমেনি। বোরো মৌসুমেও কমবে না। কারণ সরকার শুধু বাজারে অভিযান করে। মিলে না করা পর্যন্ত দাম কমবে না।’
চোরাই চিনি কম দামে বিক্রি :
বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা ও পাঁচ লিটার ৮১০-৮১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ইউসুফ স্টোরের ইউসুফ বলেন, রমজানে চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ে। কিন্তু এক মাসেরও বেশি আগে ঈদ হয়েছে। তার পরও আগের মতো ছোলা ১১০ টাকা কেজি, বেসন ১২০, খোলা চিনি ১৪০, প্যাকেট চিনি ১৪৫ টাকা। তবে ভারতের চোরাই চিনি বিভিন্ন বাজারে ছেয়ে গেছে। এ জন্য কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ১২০-১৩০ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান। দুই কেজি আটা ১১০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।













সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লায় ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়
‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান
বেশি ভাড়া রাখায় উপকূল পরিবহনকে জরিমানা
কুমিল্লায় সড়কে ঝরলো ৫ প্রাণ
কোরবানির পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে জমজমাট বেচাকেনা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক
বেশি ভাড়া রাখায় উপকূল পরিবহনকে জরিমানা
লালমাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
দাউদকান্দিতে ১০ কি.মি দীর্ঘ যানজট
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft