শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মাদকের ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ এএম |

মাদকের ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে
দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলার পরও থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। শহর থেকে গ্রামে- সবখানেই ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিল সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এই মরণ নেশায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছে কিশোর ও তরুণরা। ফলে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক অস্থিরতা। মূলত সীমান্তঘেঁষা অবস্থান, পাচারের সহজ রুট আর দুর্বল সামাজিক প্রতিরোধের সুযোগ নিয়ে গোটা সীমান্তবর্তী জেলা মাদকের ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত বাহক ও খুচরা কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও পাচারকারী চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বড় একটি অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও থামছে না পাচার, বরং নতুন নতুন রুট ও কৌশলে বিস্তৃত হচ্ছে অবৈধ এই নেটওয়ার্ক।
তথ্যমতে, গত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বন্ধ না হওয়ার নেপথ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, মাদকের প্রবল চাহিদা ও সহজলভ্যতা, ভৌগোলিক ট্রানজিট, গডফাদাররা অধরা থাকা, সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের বিস্তার ও অপকৌশল, আইনি ফাঁকফোকর এবং পুনর্বাসনের অভাব থেকেই সমাজে মাদকের ব্যাপক বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। মাদক মামলার আসামিরা সহজেই আইনি সুযোগ নিয়ে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ খবরের কাগজকে বলেন, মাদক আইনের মামলার ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা খুব জরুরি। রাজধানী ঢাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, রাজধানীর চারপাশের এলাকাগুলো এবং নিম্ন আয়ের বসতি বা বস্তি-মহল্লাগুলোয় মাদক তৎপরতা ভয়ানক রূপ নিয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, দেশে মাদকের আগ্রাসন তীব্র হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেমন এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে, তেমনি পরিবার ও সমাজেরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রথম নিয়ন্ত্রণটা পরিবার ও সমাজ থেকে আসা জরুরি।
মাদক নির্মূলে সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রুখতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোতে হবে সরকারকে। পরিবারের অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় সবাইকে এ ব্যাপারে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্বার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
এইচএসসির প্রথম দিনে কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিত ১৭৯৫ জন
সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লায়ও নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করেছেনপ্রধানমন্ত্রী
মহাসড়কে মিলল গহবধূর লাশ, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের
হামের উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু
ব্রাহ্মণপাড়ায় ১২ দিনের অনশনের পর প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন তরুণী
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
বাংগরাকে উপজেলা ঘোষণা করায় আনন্দের জোয়ার মিষ্টি বিতরণ ও শোভাযাত্রা
স্বপ্নের জাপান থেকে ফিরল শুধু মৃত্যুর খবর
জুলাই ধ্বংসের শুরু হলো যেভাবে-
কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধেরঘটনায় লক্ষ্মীপুর থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার অপু
ব্রাহ্মণপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গোপালগঞ্জের তরুণীর অনশন, তোলপাড়
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২