কুমিল্লার
মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকার কদমতলা
বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন মহাসড়ক থেকে মীম আক্তার নামে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে
পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মীম ব্রাহ্মণচর
নয়াগাঁও গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, ভোররাত ৪টার দিকে
স্থানীয় লোকজন সড়কের ওপর এক নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে মেঘনা থানায় খবর দেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পাশ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই
ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত
করা হয়।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার
ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. সিয়ামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মীমের
বিয়ে হয়। ঘটনার দিন ভোরে সিয়াম তাঁর শাশুড়িকে ফোন করে জানান, ঘুম থেকে উঠে
মীমকে বাড়িতে পাননি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক
পর্যায়ে জানতে পারেন, মেঘনায় মহাসড়কে মীমের লাশ পাওয়া গেছে।
নিহত মীমের
মায়ের ভাষ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেয়েকে ফোন করেছিলেন তিনি। তখন
মীম বলেছিলেন পরে কথা বলবেন। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে
জামাই ফোন করে জানতে চান, মীম তাদের বাড়িতে গিয়েছেন কিনা। তখন তিনি বলেন,
‘এখানে কেন আসবে, সে তো আপনাদের বাড়িতেই। পরে খোঁজাখুঁজি শুরু করি।
কিছুক্ষণ পর জানতে পারি, আমার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনা নাকি হত্যা
জানি না, তবে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানাই।’
মীমের বাবা থানায়
গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁর মেয়েকে দুই দিন আগে নিয়ে গেছে জামাই
সিয়াম। তাঁর মেয়েকে অত্যাচার করতেন শাশুড়ি। মেয়ের শাশুড়ি বলেছেন, ‘তুই
কিভাবে আমার ছেলের ভাত খাস দেখবো? আমার ভাইজিকে বিয়ে করাবো।’ তাঁর অভিযোগ,
মীমকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় সঠিক তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দেয়
মেঘনা থানার পুলিশ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, লাশে থাকা বিভিন্ন
আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে
না। বিভিন্ন গুঞ্জনের পরিবর্তে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত
প্রয়োজন।
নিহত মীমের স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গোবিন্দপুর
ইউপি সদস্য মো. হালিম সমকালকে জানান, প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায়
এক-দেড় বছর আগে আদালতে গিয়ে বিয়ে করেন মীম ও সিয়াম। পরে মেনে নিলে স্বামীর
পরিবারে চলে যান মীম। তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে মীমাংসা করে দেন তিনিসহ
কয়েকজন। কিছু দিন ধরে বাবার বাড়িতেই ছিলেন মীম। দুই দিন আগে তাঁর স্বামী
মানিকারচর বাজারে এসে কল দিলে তাঁর সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। গতকাল
বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
মেঘনা থানার ওসি
শহীদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। লাশের মাথার পেছনে,
পায়ে ও বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
