চৌদ্দগ্রামপ্রতিনিধি:কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রামে ‘বিয়ে না করায়’ সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম নামে যুবককে এক
ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত
প্রেমিকা নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে এ
ঘটনা ঘটে। সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের বড় ছেলে। থানার উপ-পরিদর্শক
(এসআই) সামছুল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও নাইমার
বয়ানের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার
মরহুম জলিল মৃদার মেয়ে নাইমা জাহানের সাথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষীপুর
গ্রামের হাজী এনামুলে হকের ছেলে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক
ঘড়ে উঠে। এরই মধ্যে দুইজনে ঢাকায় আবাসিক হোটেলে কয়েকবার রাত্রীযাপন করেছিল।
সম্প্রতি নাইমা জাহানের তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে সিয়াম। বিয়ের
জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকে। এরই মধ্যে নাইমা জাহানকে বিশ
হাজার টাকা নিয়ে লক্ষীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয় সিয়াম। টাকা
জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাইমা রোববার রাতে লক্ষীপুর গ্রামে
সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আসে নাইমা। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা জাহান ও
সিয়ামের বন্ধু পার্শ্ববর্তী বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের কাজী বাড়ির
আরিয়ান রাত্রীযাপন করে। ভোরে সিয়াম প্রেমিকা নাইমা জাহানকে বাসা থেকে চলে
যাওয়ার জন্য বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে
সিয়ামের পেটে আঘাত করে প্রেমিকা নাইমা জাহান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল
বন্ধু আরিয়ান। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশ-পাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা জাহান ও
বন্ধু আরিয়ান আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের
লাশ উদ্ধার ও দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার
উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেমিকা ও তাঁর বন্ধুসহ
দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
