চৌদ্দগ্রাম
প্রতিনিধি: ভারতের দিল্লিতে চিকিৎসা করাতে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন মোঃ নূরুল আমিন ওরফে সোহাগ(৪৪) নামের এক
ব্যক্তির। একই ঘটনায় তাঁর পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হয়ে এখন
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাঁরা সবাই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া
ইউনিয়নের সাঙ্গীশর গ্রামের বাসিন্দা। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত সোহাগের
আত্মীয় মোঃ কবির।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহাগের বড়
ভগ্নিপতি মোশাররফ হোসেন মসুর দুই কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে
কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য গত ২ জুন মঙ্গলবার সকালে তিনি পরিবারের পাঁচ
সদস্যকে নিয়ে ঢাকা থেকে বিমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে যান। সেখানে তাঁরা একটি
বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পর শহরের মালভিয়া নগর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে
অবস্থান নেন। পরদিন ৩ জুন বুধবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে
মালভিয়া নগরের ফ্লোরিশ স্টে (মিকাসা ইন নামেও পরিচিত) হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে
এবং অনেকেই আটকা পড়েন। ঘটনার সময় নাশতার জন্য নিচে নামতে ছিলেন সোহাগ। হঠাৎ
আগুনের কবলে পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় তাঁর বড় বোন রেহানা
আক্তার মুন্নী, ভগ্নিপতি মোশাররফ হোসেন মসু, চাচাতো বোন উম্মে জোহরা এবং
উম্মে জাইমা গুরুতর দগ্ধ হয়ে উদ্ধার হন। সেখানে সোহাগের মতো আরও ২১ জন
প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতদের পরে স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাঁরা বর্তমানে আইসিইউতে আছেন এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত মোঃ নূরুল
আমিন সোহাগ আব্দুস সোবহানের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ে
সন্তানের জনক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রামে ‘আমিন
অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি খাদ্যসামগ্রী কারখানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসার জন্য নেওয়া এই সফর মুহূর্তেই ভয়াবহ
ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়। একদিকে সোহাগের মৃত্যু, অন্যদিকে আহত স্বজনদের
জীবন-মৃত্যুর লড়াই-সব মিলিয়ে মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে
আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, ‘পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয়
সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে’।
