তিতাস
প্রতিনিধি : কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মারামারি মামলার এক আসামিকে আটক করে
গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার
পরিবার। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী।
নিখোঁজ ব্যক্তি উপজেলার কাপাসকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. ছালাল মিয়া
(৪০)।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রোববার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে
ছালাল মিয়া নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের তার মামা জজ মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময়
প্রতিপক্ষের উজ্জ্বল মিয়া ও তার ভাইয়েরা তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে শিকল
দিয়ে বেঁধে রাখে এবং মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা পুলিশকে খবর
দেয়।
ছালাল মিয়ার স্ত্রী মিনা আক্তার জানান, স্বামীকে আটকের খবর পেয়ে
তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে অভিযুক্তরা তাকে
ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। এরপর থেকে তার স্বামীর আর
কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গাছের
সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। আমি থানায় লিখিত
অভিযোগ দিয়েছি। আমার স্বামীকে ফিরে পেতে পুলিশের সহযোগিতা চাই।”
অভিযোগের
বিষয়ে জানতে চাইলে উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “ছালাল একটি মারামারি মামলার আসামি।
ওসির নির্দেশে তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া
হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় ছালালের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও
লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। তখন পরিস্থিতি সামাল
দেওয়ার একপর্যায়ে ছালাল শিকল খুলে পালিয়ে যায়।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা
শখিনা বেগম দাবি করেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ছালাল মিয়াকে
গ্রামের সামছুলের বাড়ির দিকে যেতে দেখেছেন।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, “কাপাসকান্দি গ্রামে মারামারি মামলার এক
আসামিকে প্রতিপক্ষ আটকে রেখেছে-এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়।
তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কাউকে পায়নি। স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই
ব্যক্তি সেখান থেকে চলে গেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “পরে আসামির স্ত্রী তার
স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা
হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছালাল মিয়া নিজেই কোথাও আত্মগোপনে
রয়েছেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ছালাল মিয়ার অবস্থান শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
