নিজস্ব
প্রতিবেদক:কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনে
সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুন সন্ধ্যার পূর্বে বুড়িচং উপজেলার
কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের
অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি
হাইএস (ঐরধপব) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের গাড়ির
গতিরোধ করে। এ সময় গাড়ির চালক সুজন ও হেলপার সাওন রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার
অনুরোধ করলে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে
এলে তাদেরও হুমকি দিয়ে বলা হয়, “কংসনগর বাজারে আয়”।
পরে সন্ধ্যার আগ
মুহূর্তে গাড়িটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে ওই হাইএসে থাকা ১০-১২ জনের একটি
সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে যাত্রীদের
ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ
অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১
হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নেয়। এর মধ্যে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার
টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারের কাছ থেকে ১
হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা
দিতে গেলে তার জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করে মারধর করা হয়। পরে ডাকাতরা দ্রুত
ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি)-কে অবহিত করা হলে তিনি জানান, “আমরা হাইওয়ে ডিউটির কাজে দেবপুর
ফাঁড়িতে আছি। মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে
জানা যায়, ডাকাত দলের প্রধান হিসেবে বুড়িচং উপজেলার উত্তর ভারেল্লা
ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল মিয়ার নাম উঠে
এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র এ ঘটনায় জড়িত।
বিষয়টি
সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন,
“ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করুক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।”
ডাকাতির
ঘটনায় বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক
পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা
পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি
বলেন ভুক্তভোগীদের কেউ মামলা করলে সহযোগীতা করবো।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের
দাবি, ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কাছে
যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
