দেবিদ্বার
প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের মরিচা গ্রামে
সরকারি রাস্তা ও খাস জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়
আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল হাসান ভুঁইয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন
ধরে চলা এই দখলের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্রশাসন বিষয়টির সত্যতা পেলেও এখন পর্যন্ত রাস্তা উদ্ধারে কার্যকর কোনো
পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এদিকে সম্প্রতি রাস্তাটির
উন্নয়ন ও প্রসস্থের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলেও দখলদাররা অবৈধ
স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, রাজামেহার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য
রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কামরুল হাসান
ভুঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র মরিচা মৌজার ১ নম্বর খাস
খতিয়ানভুক্ত বিএস দাগ নং-৯২৪ এর প্রায় ২০ শতক সরকারি রাস্তার জমি দখল করে
দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আলমগীর ওরফে
পিচ্চি কামাল, খোকন মিয়া, খোরশেদ, শরীফসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন
স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় এক দশক ধরে সরকারি এই রাস্তাটি প্রভাব
খাটিয়ে নিজেদের দখলে রেখেছে ওই চক্রটি। ফলে গ্রামবাসীর স্বাভাবিক চলাচল
ব্যাহত হচ্ছে এবং জনসাধারণকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের
দাবি, সম্প্রতি সরকারিভাবে রাস্তাটির উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া
হয়। তবে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনা থাকায় উন্নয়ন কাজে বাধার সৃষ্টি করে
দখলদাররা। এ কারণে রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয়
ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার জন্য তিনি
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে দখলের সত্যতাও পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন
পর্যন্ত দখল উচ্ছেদে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে রাস্তার সংস্কার
কাজও বন্ধ রয়েছে।
মরিচা গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন
বলেন, এটি বহু বছরের পুরাতন রাস্তা যা ম্যাপেও রয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়
থাকাকালে কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিপুল অর্থের বিনিময়ে আলমগীর, খোকন মিয়া,
খোরশেদ, শরীফসহ আরও কয়েকজন রাস্তা দখল করে দোকানপাট ও বাড়ি নির্মাণের সুযোগ
দেন। সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা না হলে এলাকার
মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হতে হবে। তাই সরকারি এ রাস্তাটি উদ্ধার
করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত
কামরুল হাসান ভুঁইয়া বলেন, আমি নিজে কিংবা আমার কোন লোক রাস্তা দখল করেনি।
যদি রাস্তা দখল কারণে রাস্তা সংস্কারের কাজ বন্ধ থাকে তাহলে অবৈধ স্থাপনা
উচ্ছেদ করে রাস্তা কাজ করলেই হয়।
ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন,
রাস্তা প্রসস্থের জন্য বরাদ্দ এসেছে কিন্তু দখলের কারণে তা করা যাচ্ছে না।
আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর আবেদন করেছি। দেবিদ্বার উপজেলা
নির্বাহী অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন,সরকারি রাস্তা যারাই দখল করবে
সবগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। রাস্তা দখল করে রাখার কোন সুযোগ নেই।
