
কুমিল্লা-৬
(সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লা রপ্তানি
প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা
অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো শিল্প
কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। ইপিজেডের শিল্পকারখানা থেকে নির্গত
রাসায়নিক বর্জ্য অবশ্যই শোধনাগারে পরিশোধনের মাধ্যমে পরিবেশসম্মত উপায়ে
নিষ্কাশন করতে হবে। অন্যথায় এসব বর্জ্য কোনোভাবেই প্রাকৃতিক খালে ফেলা যাবে
না।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় কুমিল্লা ইপিজেডে বাংলাদেশ রপ্তানি
প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য
বলেন, কুমিল্লা ইপিজেড দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান
রেখে আসছে। এখানে প্রতিবছর বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রপ্তানি আয়ও
ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে
কুমিল্লা ইপিজেড জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে
বলেন, ইপিজেডের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক
বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রাকৃতিক খাল ও
জলাশয়ে মিশে যাচ্ছে বলে স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করে আসছে। এর ফলে শুধু পরিবেশ
নয়, জীববৈচিত্র্য, কৃষি উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক
প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, এসব রাসায়নিক বর্জ্য খালের পানির সঙ্গে মিশে
দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদকে দূষিত করছে। কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে,
ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতির
সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে দূষিত পানি ও পরিবেশের কারণে মানুষের
স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, অনতিবিলম্বে ইপিজেডের
সকল রাসায়নিক বর্জ্য আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারে (ইটিপি) পরিশোধন করে পরিবেশগত
মান নিশ্চিত করার পরই প্রাকৃতিক খালে নিষ্কাশন করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি
করে কোনো শিল্পায়ন গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের স্বাস্থ্য ও কৃষি সুরক্ষায়
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে
হবে।
সভায় তিনি কুমিল্লা ইপিজেডের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়েও মতামত দেন।
তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে কুমিল্লা
ইপিজেডের পরিধি বাড়ানোর এখন উপযুক্ত সময়। বর্তমান ইপিজেডের দক্ষিণাংশে
পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এটি দক্ষিণ দিকে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা সম্ভব। পাশাপাশি গোমতী নদীর
উত্তর পাড়ে নতুন একটি পৃথক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে
পারে।
বেপজার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক
(কমার্শিয়াল) হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (আইআর) ফেরদৌস,
নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান এবং সহকারী প্রকৌশলী (৫ম গ্রেড)
সফিকুল ইসলামসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
