
জাতীয়
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লায় তিন
দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৫ মে)
বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি, মৎস্য ও
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে
কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবির সৃষ্টি ও চেতনা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়ের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। কবির ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি শোনেনি
এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। এই গান শুনলে যেকোনো নিস্পৃহ মানুষের শরীরেও
বিপ্লবের উদ্দীপনা জেগে ওঠে। কবি নজরুল শোষিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের
মুক্তির জন্য কলম ধরেছিলেন এবং পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন
করিয়েছিলেন। মহান সৃষ্টিকর্তা এমন কালজয়ী মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই পাঠান।
আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, নজরুলের মতো একজন মহাপুরুষকে আমরা এই বাংলার
মাটিতে পেয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে
স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম-সবখানেই কবির গান ও কবিতা আমাদের প্রেরণা
জুগিয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনেও নজরুলের গান রাজপথকে
উত্তাল করে তুলেছিল। আগামী প্রজন্মের কাছে কবির সঠিক ইতিহাস ও তথ্য পৌঁছে
দিতে এবং তরুণ সমাজে নজরুল চর্চা আরও বেগবান করতে এই সরকার যা কিছু করা
প্রয়োজন, তার সবকিছুই করবে।
আগামী প্রজন্মের কাছে নজরুলের সঠিক ইতিহাস ও
তথ্য পৌঁছে দিতে এবং তরুণ সমাজে নজরুল চর্চা আরও বেগবান করতে এই সরকার যা
কিছু করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা
হাসান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক
মিয়া, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম, লেখক ও গবেষক
প্রফেসর শান্তি রঞ্জন ভৌমিক, লেখক ও গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী, কুমিল্লা
সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসনাত মো. মাহবুবুর রহমান' সহ স্থানীয়
সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।
