
পরিবারের
মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সুদূর ডুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের
মো. নুরে আলম (৩২)। কিন্তু সেই প্রবাস জীবনই কেড়ে নিল তার প্রাণ। সড়ক
দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এই
প্রবাসীর। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পারিবারিক
সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে সোমবার ডিউটি শেষে কোম্পানির মাইক্রোবাসে করে
বাসায় ফিরছিলেন নুরে আলমসহ ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক। পথে একটি তেলবাহী গাড়ি
দ্রুতগতিতে এসে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে
মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং নুরে আলমসহ সবাই গুরুতর আহত হন।
পরে
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় রাসেল কিনার আল কাসিমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় সময় সকাল
১০টায় না ফেরার দেশে চলে যান নুরে আলম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের
মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিহতের বড় ভাই ও পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মাস্টার জানান, সংসারের অভাব
ঘোচাতে প্রায় ছয় বছর আগে ডুবাই যান নুরে আলম। মাত্র ছয় মাস আগে ছুটিতে দেশে
এসে স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে
ফিরে যান তিনি। কে জানতো, সেটাই হবে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ দেখা।
নুরে
আলম গোবিন্দপুর গ্রাম গ্রামের হাজী আয়েত আলীর ছেলে। তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী
ও মাত্র ১৭ মাস বয়সী এক শিশুপুত্রকে। বাবাকে হারানোর অর্থ কী, সেই ছোট্ট
শিশুটি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু পরিবারের কান্না আর স্বজনদের
আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।
নুরে আলমের মৃত্যুর খবর
এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর
শোকের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে
শেষবারের মতো মুখ দেখার আকুতি জানিয়েছেন।
