আসন্ন
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী রাজগঞ্জ বাজারসহ
বিভিন্ন এলাকার কামারশালাগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। কোরবানির পশু জবাই এবং
মাংস কাটার প্রধান হাতিয়ার দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি শান দিতে (ধারালো করতে)
এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরিতে দিন-রাত পার করছেন কামাররা। তবে ব্যস্ততা বাড়লেও
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আশানুরূপ বিক্রি না থাকায় কামারদের কপালে
চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে কুমিল্লার প্রধান বাণিজ্যিক
কেন্দ্র রাজগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে
কয়লার আগুনের উত্তাপ আর হাতুড়ি পেটানোর ‘ঠন ঠন’ শব্দ। কেউ নতুন চাপাতি
তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কেউ পুরনো দা-ছুরি শান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার
করছেন।
তবে মৌসুমী এই ব্যস্ততার মধ্যেও ব্যবসায় মন্দা ভাব যাচ্ছে বলে
জানিয়েছেন স্থানীয় কারিগর ও বিক্রেতারা। রাজগঞ্জ বাজারের কামার ব্যবসায়ী
পলাশ মিয়া "দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে" বলেন,
'এ বছর বাজারে নতুন মালামাল
তুললেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। আগে প্রতি কোরবানির মৌসুমে আমাদের ২০ থেকে
৫০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বেচাকেনা একেবারেই কম।'
বিক্রি
কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, রাজগঞ্জ বাজারেই বর্তমানে ৩৫টিরও বেশি
কামারের দোকান রয়েছে। এছাড়া এখন আর ক্রেতাদের কষ্ট করে দূর থেকে শহরের মূল
বাজারে আসতে হয় না; প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও স্থানীয় মোড়গুলোতেই মৌসুমী
কামাররা দোকান নিয়ে বসছেন। ফলে ক্রেতারা এলাকাতেই কাজ সেরে নিচ্ছেন, যার
সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহরের স্থায়ী ব্যবসায়ীদের ওপর।
ব্যবসায়ীরা আশা
করছেন, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, শেষ মুহূর্তে হয়তো পুরনো দা-ছুরি শান
দেওয়ার জন্য ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা বাড়বে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও
যত্রতত্র দোকান গড়ে ওঠায় ঐতিহ্যবাহী এই পেশার স্থায়ী কারিগররা দিন দিন চরম
লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
