ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়ায় গত কয়েক দিনের তীব্র গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই গরমে একটু
স্বস্তি ও প্রশান্তি পেতে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কচি তালের
শাঁস। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের মোড়ে মোড়ে এখন তালের শাঁস বিক্রির
ধুম পড়েছে। দাম নাগালে থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই এটি লুফে নিচ্ছেন।
উপজেলার
৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় স্কুল-কলেজের সামনে
এবং হাট-বাজারের অলিগলিতে ভ্যানে করে বা ঝুড়িতে সাজিয়ে তালের শাঁস বিক্রি
করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তালের শাঁস কিনতে দেখা গেছে দীর্ঘভূমি গ্রামের
বাসিন্দা মনির হোসেনকে। তিনি বলেন, “গরমে তালের শাঁস খেতে খুব আরাম লাগে।
সিজনে আমি প্রতিদিন দু-একটা খাওয়ার চেষ্টা করি। এটি খেলে ক্লান্তি দূর হয়
এবং রাতে ঘুম ভালো হয়।”
তালের শাঁস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে, এ বছর চাহিদা অনেক বেশি। উপজেলার পুর্ণমতি গ্রাম থেকে আসা ৭০ বছর
বয়সী প্রবীণ বিক্রেতা ফারুক হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই মৌসুমে
তালের শাঁস বিক্রি করছেন।
বিক্রয়মূল্য প্রসঙ্গে ফারুক হোসেন বলেন, “আগে
তো ৫-১০ টাকায় বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন গাছ থেকে কিনতে খরচ বেশি পড়ে।
এছাড়া গাছ থেকে পাড়া এবং পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকের পারিশ্রমিক অনেক বেড়ে
গেছে। তাই এখন প্রতি পিস বা তালের ভেতরের ৩টি শাঁস ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে
বিক্রি করতে হচ্ছে।”
পুষ্টিবিদদের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে পানি
ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে
সাহায্য করে। তাই এই প্রচণ্ড দাবদাহে ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের কাছে তালের
শাঁস এখন অপরিহার্য এক খাবারে পরিণত হয়েছে।
