
ইসলাম কি নারীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে? ইসলাম কি নারীদের ঘরে বন্দি রাখতে চায়। তাহলে হযরত খাদিজা (রাঃ) কিভাবে মক্কার অন্যতম সফল ও ধনী ব্যবসায়ী হলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) কি ভাবে যুদ্ধে যোগ দিলেন। নারী অধিকার প্রশ্নে মূল বিরোধের জায়গা হলো ইসলাম বিরোধীরা চায় নারী-পুরুষের ইক্যুয়ালিটি (ঊয়ঁধষরঃু) বা সমতা আর ইসলাম চায় ইক্যুইটি (ঊয়ঁরঃু) বা ন্যায্যতা।
ইক্যুয়ালিটি বা সমতা হচ্ছে কারো যোগ্যতা বা প্রয়োজন বিবেচনা না করে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া। আর ইক্যুইটি বা ন্যায্যতা হচ্ছে যোগ্যতা বা প্রয়োজন বিবেচনা করে যার যা দরকার তাকে সে পরিমাণ সুযোগ দেয়া। নারী ও পুরুষের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণে ইসলাম ইক্যুইটি বা ন্যায্যতার বিধান দিয়েছে।
পুরুষ শারীরিক ভাবে অধিক শক্তিশালী। সে মানসিক ভাবেও বেশি চাপ নিতে সক্ষম। তাই ইসলাম তাকে দিয়েছে অর্থ উপার্জন ও পরিবার প্রতিরক্ষার দায়িত্ব। আর নারী অধিক ধৈর্য্য আর কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তাই তার মূল দায়িত্ব হচ্ছে পরিবার ও সন্তান পালন। মূল দায়িত্ব পালন করেও পুরুষ সন্তানের প্রতিপালনে ও নারী অর্থ উপার্জনে একে অপরের সঙ্গী হতে পারে। ইসলামী পরিবারে তাই নারী ও পুরুষ পরস্পরের সহযোগী, প্রতিযোগী নয়। একে অপরের পরিপূরক। ইসলাম পরিবারে নারীর মর্যাদা সর্বদা সমুন্নত রাখতে চায়, সে অর্থ উপার্জন করুক বা নাইবা করুক।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামী পরিবারে প্রধান কে? স্বামী না স্ত্রী?
একটি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা দলের দুইজন নেতা প্রধান থাকতে পারেন না। প্রধানতো তাকেই করা হয় যে অধিক কর্মক্ষম ও অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। কোরআন তাই নির্ধারণ করেছে ইসলামী পরিবারে প্রধান হচ্ছে পুরুষ। তাই একই সাথে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- 'পুরুষের উপর নারীদের সেইরুপ ন্যায্য অধিকার আছে, যেমন তাদের উপর পুরুষের আছ' ( সূরা আল- বাকারা, ২২ আয়াতের অংশ)
আল্লাহ'র রাসূল (সাঃ) বলেছেন- 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।'
বাস্তবতা হচ্ছে সঠিক ইসলাম চর্চার অভাবে আমাদের অনেক মুসলিম পরিবারে মেয়েরা তাদের প্রাপ্য সম্মান বা অধিকার পায় না। তারা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয় কিন্তু এ নির্যাতনের জন্য ইসলামকে দায়ী করে ইসলাম বিরোধীরা। এরজন্য ইক্যুয়ালিটি বা সমতার ধারণা পপুলার করা হচ্ছে। পশ্চিমা জেন্ডার ধারণার মূল হচ্ছে এই ইক্যুয়ালিটির ধারণা বা মতবাদ।
অভিযোগ রয়েছে, ইক্যুয়ালিটি বা সমতার ধারণা বা মতবাদ পরিবারে স্বামী-স্ত্রীকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। একজন আরেকজনের প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পরিবারগুলো ভাঙনের মুখে পড়ছে। বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ এর জরীপ বলছে শুধু ঢাকাতেই প্রতি ৪০ মিনিটে একটি তালাক হচ্ছে।
বলা হচ্ছে ইক্যুয়ালিটি বা সমতার প্রশ্নে পুরুষ দলের বিপক্ষে কি পারবে নারীদল ফুটবল খেলতে। একজন পুরুষ কি পারবে সন্তান জন্ম দিতে, বুকের দুধ খাওয়াতে, সন্তানকে মায়ের মতো করে যত্ন নিতে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
