পিছিয়ে
পড়া বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত
করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য
হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের প্রথম মাসের বেতন থেকে ৩৪ জন বেদে শিক্ষার্থীর
জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘লেটস মিট জিপসি জিনিয়াস’ শিরোনামে এক পোস্টে
তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান। ওই পোস্টে ৩৪ জন শিক্ষার্থী ও তাদের
অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক সেশনের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি।
ভিডিওতে
অভিভাবকদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নারীদের অবশ্যই শিক্ষিত করতে
হবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরে ঘরে নারীদের শিক্ষিত
করে তোলা প্রয়োজন। আপনাদের মেয়েদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করবেন।’
বেদে
সমাজে মাধ্যমিকের পরই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা রোধে
বিশেষ বৃত্তির ঘোষণা দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই পরিবারগুলো
থেকে কেউ যদি ইন্টারমিডিয়েট (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত পড়ে, তবে তাদের
প্রত্যেককে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে বৃত্তি দেয়া হবে। এটা এক-দুবার
নয়, যতদিন পড়াশোনা চলবে ততদিন দেয়া হবে। মেয়ে এসএসসি পাস করলেই বিয়ের জন্য
যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, সেটা আর করতে হবে না। কারণ, পড়াশোনার দায়িত্ব এখন
আমাদের।’
তবে এই বৃত্তির ক্ষেত্রে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। হাসনাত
আব্দুল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ভালো ফল করতে হবে। পরীক্ষায় ফেল
করলে বা পড়াশোনায় অবহেলা করলে এই বৃত্তি বন্ধ করে দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ৩৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে তাদের মেধা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী
সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রাথমিক
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার এবং স্বাস্থ্য
সচেতনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষিত নারী
চাকরি করুক বা না করুক, তাদের সচেতন হওয়ার জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।’
মূলত ঝরে পড়া রোধ এবং উচ্চশিক্ষায় বেদে নারীদের উৎসাহিত করতেই এই ‘জিপসি
জিনিয়াস’ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
