নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পবিত্র
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও নগরীর
পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কুমিল্লা সিটি
কর্পোরেশন (কুসিক)। ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু করে মাত্র ১০ থেকে ১২
ঘণ্টার মধ্যেই নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে কুসিক। একই
সঙ্গে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে বিতরণ করা হবে ৩৫ হাজার
বস্তা এবং দুর্গন্ধ ও জীবাণু প্রতিরোধে ছিটানো হবে সাড়ে ৭ টন ব্লিচিং
পাউডার।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের
সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আগাম প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায়
সভাপতিত্ব করেন কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সভায় কোরবানির বর্জ্য
দ্রুত অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, পর্যাপ্ত যানবাহন ও সরঞ্জাম
প্রস্তুত রাখা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন এবং নগরবাসীর সচেতনতা
বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্যমতে, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে কোরবানির পশুর
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০
থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে
নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে ফেলা হবে। এ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে
নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ৩৫ হাজার বস্তা বিতরণ করা হবে, যাতে বাসিন্দারা
নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ করতে পারেন।
এছাড়াও কোরবানির
স্থানগুলোতে জীবাণু ধ্বংস ও দুর্গন্ধ প্রতিরোধে সাড়ে ৭ টন ব্লিচিং পাউডার
ছিটানো হবে। বর্জ্য অপসারণ কাজে ব্যবহার করা হবে ৬৫টি যানবাহন। পুরো
কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ৬৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনটি ভ্রাম্যমাণ তদারকি
মোবাইল টিম মাঠে কাজ করবে।
কুসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের
কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে যাতে
কোনো ধরনের পরিবেশ দূষণ বা জনভোগান্তি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি
নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত
রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই
সব বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র পশুর বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হবে মাইকিং করে।
কুসিক
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বর্জ্যের কারণে
বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সিটি কর্পোরেশনের সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে
হবে। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সচেতন সহযোগিতাও অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে
এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে
কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, প্রধান প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সিটি
কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
