“উদ্যোক্তা
হবো, দেশ গড়বো”-এই দৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে রেখে কুমিল্লায় সফলভাবে সম্পন্ন
হলো মাসব্যাপী উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার (৩০
এপ্রিল) দুপুরে নগরীর বাদুরতলায় অবস্থিত হোটেল হলিডে পার্ক
ইন্টারন্যাশনালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে
প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও সম্মাননা বিতরণ করা হয়।
এশীয় উন্নয়ন
ব্যাংক (এডিবি), অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘স্কিলস ফর
ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’ (এসআইসিআইপি)-এর
আওতায় এই বিশেষ কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করেছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি।
আয়োজকরা
জানান, কুমিল্লায় এটি ওয়ান ব্যাংকের তৃতীয় উদ্যোগ হলেও এবারই প্রথম
মাসব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ২৫ জন সম্ভাবনাময়
প্রশিক্ষণার্থী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিবিড়
প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ব্যবসা পরিচালনা, আধুনিক ঋণ ব্যবস্থাপনা
এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশনসহ উদ্যোক্তা হওয়ার খুঁটিনাটি হাতে-কলমে শেখানো
হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআইসিআইপি-এর
অতিরিক্ত সচিব ও ডেপুটি এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সৈয়দা আমিনা
ফাহমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সেক্রেটারি,
অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও এসআইসিআইপি মাহমুদা
আখতার, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি এবং অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রোগ্রাম
ডিরেক্টর মো. নজরুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, কুমিল্লা বর্তমানে
উদ্যোক্তাদের শহর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে
তারা কেবল নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করবে না, বরং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান
সৃষ্টি করবে।
ওয়ান ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড
অব এসএমই (সিসি) খন্দকার রাশেদ আখতার জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও
উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ট্রেনিং বিভাগের প্রধান মাসুদুল হক, জোনাল হেড
আক্তার সরকার এবং সিনিয়র ম্যানেজার সঞ্জয় চন্দ্র দেবনাথ ও মো. তাহেরুল
ইসলাম।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের মাসব্যাপী
অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণার্থী মাহমুদা আক্তার লাবনী, আহম্মদ
আকবর বিন কবির এবং তসলিমা আক্তার জারিন জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের
ব্যবসায়িক স্বপ্ন পূরণে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে
অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র, আর্থিক সম্মাননা ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ‘সর্বাধিক জনপ্রিয়’ ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট অর্জন
করেন প্রশিক্ষণার্থী চমন আফরোজ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কুমিল্লার স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
