
আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। আবির রাঙানো উষার আলোতে অবগাহন করে বাঙালি মেতে উঠবে প্রাণের উৎসবে। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মিলিত হবে বর্ষবরণের আনন্দ-হিল্লোলে।
গানে, কবিতায়, শিল্পকলা ও চিত্রকলায়, আচারে-অনুষ্ঠানে, প্রথায়-নানাভাবে দেশব্যাপী বরণ করা হবে নতুন বছরকে। সব মানুষের কল্যাণ কামনায় বেরোবে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। শহর-নগর-গ্রামেগঞ্জে বসবে বৈশাখী মেলা। প্রভাতের প্রথম কিরণে কোটি বাঙালির কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হবে সেই উজ্জীবনী আবাহন, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’।
কামনা করা হবে, জীর্ণ-পুরাতনকে দূরে সরিয়ে আনন্দের ডালি নিয়ে আসুক নতুন বছর।
নববর্ষ বরণের সংস্কৃতি চিরন্তন, সর্বব্যাপী। সব দেশ, সব জনগোষ্ঠী নিজ নিজ নতুন বছরে এভাবেই মেতে ওঠে বর্ষবরণের নানা আয়োজনে। বাংলা নববর্ষেও একই রীতি চলে আসছে হাজার বছর ধরে।
মেলা-উৎসবের আয়োজন, হালখাতা তৈরি, মিষ্টান্ন বিতরণ, ভালো ভালো খাবার পরিবেশন-এসব বাংলার লোকায়ত ঐতিহ্যেরই অংশ। এই একটি দিনে বাংলার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। করোনা মহামারির কারণে বাঙালির প্রাণের এই উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছিল।
আজ কিছু মানুষ বাঙালির সুপ্রাচীন এই ঐতিহ্য অস্বীকার করতে চাইছে।
সাম্প্রদায়িক বিভেদের দেয়াল তুলে দিতে চাইছে বর্ষবরণের উৎসবে। বাংলার মানুষ, বাঙালি জাতি এই সর্বজনীন উৎসবের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখবে। তাই প্রাণের টানেই বাংলার প্রতিটি প্রান্তে প্রতিটি ঘরে উদযাপিত হবে নববর্ষের উৎসব। একইভাবে পৃথিবীর যেখানেই বাঙালির বসবাস রয়েছে, সেখানেই দৃশ্যমান হবে এমন আয়োজন। প্রকাশ ঘটবে নিজের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোবাসার।
বাঙালির সংস্কৃতি ধ্বংসের যে অপচেষ্টা তদানীন্তন পাকিস্তানে শুরু হয়েছিল, তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে যে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল ছায়ানট, তা আজও বাঙালির এক অমলিন ঐতিহ্য হয়ে টিকে আছে। রাজধানীতে দিন শুরু হবে রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। জঙ্গিবাদী অপশক্তির বোমা হামলাও ছায়ানটের এই যাত্রাকে থামাতে পারেনি। অন্যদিকে বাঙালির যে ঐতিহ্য আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে, সেই শোভাযাত্রাও রয়েছে আরো বেশি বর্ণাঢ্য আয়োজনে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যেমন লাখো মানুষের ঢল নামবে, একই চিত্র দেখা যাবে চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রায়ও। রাজধানীজুড়েই থাকবে উৎসবের আমেজ। থাকবে দেশের বড় শহরগুলোতে। থাকবে গ্রামবাংলায়ও। বর্ষবরণ উৎসবের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ পেশাদারির পরিচয় দিতে হবে। প্রাণের উৎসবের স্বতঃস্ফূর্ততায় কোনো শঙ্কা যেন না থাকে।
আজকের এই বিশেষ দিনে সবার একটাই চাওয়া, ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ নববর্ষে আমাদের অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাই নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।
