কুমিল্লায়
একটি বাজারে মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক বিক্রেতার
বিরুদ্ধে। এই ঘটনা স্থানীয় লোকজন টের পেলে তোপের মুখে পরে ওই মাংস
বিক্রেতা। পরে বাজার কমিটি প্রশাসনকে না জানিয়ে শালিস বৈঠক ডেকে ওই
ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে ঘটনায় প্রায় ৩০ কেজি গোসত জব্দ
করে মাটি চাপা দেয় বাজার কমিটির লোকজন।
গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
আজ রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতা হলো,
মুরাদনগর উপজেলার থোল্লা গ্রামের সামসুল ইসলামের ছেলে মোর্শেদ মিয়া।
সৈয়দপুর
বাজারের গোসত ক্রেতা বড়শালঘর গ্রামের মো.ফরহাদ হোসেন, গাজী ঈমন ও মো.
মাসুম মিয়া জানায়, সকালে মোর্শেদের দোকান থেকে গোসত কিনে বাড়িতে নেওয়ার পর
গোসত থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। পরে আমরা গোসতগুলো তার দোকানে ফেরত নিয়ে আসি,
এসে দেখি আরও কয়েকজন ক্রেতা গোসত ফেরত নিয়ে আসছে। পরে আমরা বাজার কমিটি ও
সাবেক চেয়ারম্যানকে জানালে তারা গোসত যাচাই-বাছাই করে দেখেন এটি মরা গরু।
এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাজার কমিটি একটি শালিস বৈঠক ডাকেন ওই বৈঠকে
তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও সে মরা গরুর গোসত বিক্রির সময়
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ার পর জরিমানা দিয়ে ছাড় পায়। এখন
রমজানের রোযার সময় মানুষের কাছে মরা গরুর গোসত বিক্রি করেছে, আমরা তার
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত গোসত
বিক্রেতা মোর্শেদ মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিক ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ
করেননি। তার দোকানেও গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর বাজার
সেক্রেটারী দেওয়ান কাইয়ুম বলেন, আমরা প্রায় ৩০ কেজি মাংস নষ্ট করেছি, তাকে
বারবার বলা হয়েছিল যেন এই বাজারে প্রকাশ্যে গরু জবাই করে তাকে গরু জবাইয়ের
স্থানও নির্ধারণ করে দিয়েছি, কিন্তু সে তার বাড়ি থেকে জবাই করে এই বাজারে
গোসত নিয়ে আসে। দুর্গন্ধ বের হওয়ায় অনেকে গোসত ফেরত নিয়ে আসে। এখন গরু মরা
কিনা তা জানিনা এটা ল্যাবটেষ্ট করলে বুঝা যেত। ভবিষ্যতে সে যেন এই কাজ না
করে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু জরিমানার টাকা আমরা আদায়
করিনি। সালিশ বৈঠকে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে
প্রশাসনকে না জানিয়ে শালিস বৈঠকে জরিমানা করা যায় কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে
তিনি বলেন, সে গরিব মানুষ তাই সবার অনুরোধে তাকে একবার সুযোগ দেওয়া
হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, লোকজন
আমার কাছে বিচার নিয়ে আসলে আমি বাজার কমিটির কাছে তাদের হস্তান্তর করে চলে
আসি, পরে শুনেছি বাজার কমিটি শালিস করে জরিমানা করেছে।
এ বিষয়ে
দেবিদ্বার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, এমন অপরাধে বাজার কমিটি জরিমানা করার
কোন সুযোগ নেই। ঘটনার সময় আমাদের জানালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষনিক ওই
ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে
পারতাম, কিন্তু কেউ আমাদের জানায়নি। যেহেতু এখন জানতে পেরেছি আমরা খবর
নিচ্ছি অপরাধী হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
