জেলা
তথ্য অফিস কুমিল্লার আয়োজনে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কুমিল্লার সম্মেলন
কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি প্রচার
কার্যক্রম বিষয়ে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সিনিয়র তথ্য অফিসার কুমিল্লা
মোহাম্মদ নূরুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে বক্তব্য
রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক
সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক
ফারহানা আমিন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক নার্গিস কবির। বর্তমান
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়ন, আত্ননির্ভরতা ও সামাজিক
উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
হয়। এ সমাবেশে স্থানীয় নারী সমাজ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও
বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নারী সমাবেশে বক্তাগণ বলেন,
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ১০ মার্চ চালু হওয়া প্রকল্পের আওতায়
প্রাথমিকভাবে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড
প্রদানের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো আর্থিক
সহায়তা পাবে। পরবর্তীতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রম ৪ কোটি পরিবারকে এই
সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। আগামী মাসে কৃষক
কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা প্রায় ১৩ লাখ ১৭
হাজার ৪৯৮ জন ক্ষুদ্র কৃষককে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৫টি
রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৬৮ কোট টাকার ঋণ মওকুফ
করা হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম,
পুরোহিত, অধ্যক্ষ, পালক/যাজকসহ ধর্মীয় নোতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান করেছে
বর্তমান সরকার। আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন
কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশে নারীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত
নিশ্চিত করতে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করবে সরকার, যেখানে চালক থেকে শুরু
করে হেল্পার পর্যন্ত সবাই নারী। নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে সমর্থন
দেওয়া, প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা এবং সামাজিক
সহাবস্থান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সক্রিয়
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহব্বান জানান। বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগের
সঙ্গে এনজিও ও কমিউনিটি লেভেলের সহযোগিতা থাকলে নারীদের স্বনির্ভরতা এবং
সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়বে। নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন ছাড়া
টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে অর্জন সম্ভব নয়। সকল ক্ষেত্রে নারী
অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চাকুরীতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত জরুরী। নারী সমাবেশের
শুরুতে চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
