শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৫ বৈশাখ ১৪৩৩
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গতিশীল করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১:০১ এএম |

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গতিশীল  করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের অবস্থান এ সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। কিন্তু আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পর লক্ষ করেছি, সে সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। গত দেড় বছরে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশই একে অপরের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। গত সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর নানা বিষয় উঠে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৈরি হওয়া বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উভয় দেশ কাজ করবে। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ থাকা স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট ধাপে ধাপে চালু এবং একে অপরের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। অন্যদিকে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কীভাবে এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। কীভাবে দুই দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যবসাগুলোর জন্য পারস্পরিক সম্পৃক্ততা সহজ করা যায় এবং কীভাবে আমরা একসঙ্গে  কাজ করতে পারি, যাতে আমাদের ভৌগোলিক নৈকট্য, দুই দেশের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তা নতুন অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ ভারতীয় হাইকমিশনারের এ বার্তা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে একটি গতিশীল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক চলমান রয়েছে, মাঝেমধ্যে এ সম্পর্কে টানাপোড়েন হলেও পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশই একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বৈরী সম্পর্কের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সচল ছিল। দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সহজতর করতে সীমান্ত পথ খুলে দেওয়া হয়েছিল, সীমান্ত হাট চালু করা হয়েছিল, এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছিল। বিগত দেড় বছরে তার কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। রাজনৈতিক কারণে স্থবির হয়ে পড়া আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে দুই দেশই লাভবান হবে। বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সামগ্রীও দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে সংকট উত্তরণ সহজ হবে।
আমরা আশা করি, উভয় দেশের সরকার পারস্পরিক স্বার্থে খোলা মন নিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক পদক্ষেপ নেবে। আসন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
সাফল্যের উৎসবে জনতার জোয়ার
কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা মাদকবিরোধী শপথে কৃতি শিক্ষার্থীরা
‘সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ো মাদককে না বলো’
আমার সরকারি বেতন-ভাতা মেধাবীদের জন্য বিলিয়ে দেবো
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ জন গ্রেপ্তার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
‘আধুনিক বাসযোগ্য কুমিল্লা নগরী বিনির্মাণ’ সেমিনারের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
চান্দিনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুৎ খুঁটিতে বাস চাপা পড়ে নিহত পথচারী
কুমিল্লায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আজ
সাফল্যের উৎসবে জনতার জোয়ার
কুমিল্লার ১৪৫৮ জন কৃষক ‘কৃষি কার্ড’ পাবেন আজ
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২